ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন ইমরান খান

  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২
  • / 129
প্রবাসী কণ্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবশেষে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর মধ্যে দিয়ে মেয়াদ পূর্তির আগেই শেষ হলো তার প্রধানমন্ত্রিত্ব।

নির্বাচনে সময় অনেক আলোচনার জন্ম দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন পাক ক্রিকেট টিমের সাবেক এই অধিনায়ক। দু’দিন আগেই বলেছিলেন শেষ বল অব্দি খেলে যাবেন। কিন্তু শেষ বলে আর রক্ষা হলো না।

শনিবার (০৯ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে স্পিকারের পদত্যাগের পর প্যানেল স্পিকার পাকিস্তান মুসলিম লিগের- পিএমএল (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক পরিচালনা করেন অনাস্থা ভোট। এতে জাতীয় পরিষদের ৩৪২ ভোটের মধ্যে ১৭৪ ভোট অনাস্থা ভোটের পক্ষে পড়ে বলে ঘোষণা দেন আয়াজ।

পাকিস্তান মুসলিম লিগের মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, অধিবেশন পরিচালনা করায় আয়াজ তার ভোট দেননি। এছাড়া ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ‘ভিন্নমত’ ভোট গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়েনি।

ফলাফল ঘোষণার পর আয়াজ শেহবাজ শরীফের হাতে ফ্লোর ছেড়ে দেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বিরোধী দলীয় প্রার্থী।

অনাস্থা ভোট শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় পদত্যাগ করেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাশিম সুরি। ফলে অনাস্থা ভোট পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে প্যানেল স্পিকার পিএমএল (এন) নেতা আয়াজ সাদিকের ওপর।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (০৯ এপ্রিল) মধ্যরাত ১২টায় শেষ হয় ইমরান খানের ওপর আনাস্থা ভোটগ্রহণের সময়। কায়সার শনিবার সকাল থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশনটি পরিচালনা করছিলেন। তবে সেটি প্রথমে ইমরান ও তার মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণে মুলতবী করা হয়। পরে ইফতার ও এশার নামাজের কারণে ফের মুলতবী করা হয়।

এরপর পাক প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাক আর্মির ত্রিপল ওয়ান ইনফন্ট্রি ব্রিগেড। আকাশে ওড়ানো হয় সামরিক হেলিকপ্টার। উচ্চ সতর্ক অবস্থান নিতে বলা হয় পাকি সেনাদেরও। আবার ইসলামাবাদের সড়কে নামানো হয় ছয়টি ট্যাংক।

এ অবস্থার মধ্যে প্রধান বিচারপতি মধ্যরাতেও আদালত খোলা রাখার নির্দেশনা দেন। বলেন, অনাস্থা ভোটগ্রহণ না হলে সেটা হবে আদালত অবমাননা।

শেষমেষ পদত্যাগী স্পিকার কায়সার বলেন, আমি সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ। এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি আর এই পদে থাকতে পারি না। তাই পদত্যাগ করছি। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক তার আসনে বসতে বলেন এবং অনাস্থা ভোট গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলেন। পরে রাত ১২টার পরপর তিনি অনাস্থা ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

গত রোববার ইমরানের ওপর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছিলেন পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। এরপর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার আইন সভা ভেঙে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে আইনসভাকে পুনরুজ্জীবিত করার রায় দেন এবং একই সঙ্গে শনিবার (০৯ এপ্রিল) অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে দেন।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী অধিবেশন বসলেও তা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মুলতবী করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি ও আর্মির চাপে পড়ে অনাস্থা ভোটেই যেতে হয় ইমরান খানকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন ইমরান খান

আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২

অবশেষে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর মধ্যে দিয়ে মেয়াদ পূর্তির আগেই শেষ হলো তার প্রধানমন্ত্রিত্ব।

নির্বাচনে সময় অনেক আলোচনার জন্ম দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন পাক ক্রিকেট টিমের সাবেক এই অধিনায়ক। দু’দিন আগেই বলেছিলেন শেষ বল অব্দি খেলে যাবেন। কিন্তু শেষ বলে আর রক্ষা হলো না।

শনিবার (০৯ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে স্পিকারের পদত্যাগের পর প্যানেল স্পিকার পাকিস্তান মুসলিম লিগের- পিএমএল (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক পরিচালনা করেন অনাস্থা ভোট। এতে জাতীয় পরিষদের ৩৪২ ভোটের মধ্যে ১৭৪ ভোট অনাস্থা ভোটের পক্ষে পড়ে বলে ঘোষণা দেন আয়াজ।

পাকিস্তান মুসলিম লিগের মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, অধিবেশন পরিচালনা করায় আয়াজ তার ভোট দেননি। এছাড়া ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ‘ভিন্নমত’ ভোট গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়েনি।

ফলাফল ঘোষণার পর আয়াজ শেহবাজ শরীফের হাতে ফ্লোর ছেড়ে দেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বিরোধী দলীয় প্রার্থী।

অনাস্থা ভোট শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় পদত্যাগ করেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাশিম সুরি। ফলে অনাস্থা ভোট পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে প্যানেল স্পিকার পিএমএল (এন) নেতা আয়াজ সাদিকের ওপর।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (০৯ এপ্রিল) মধ্যরাত ১২টায় শেষ হয় ইমরান খানের ওপর আনাস্থা ভোটগ্রহণের সময়। কায়সার শনিবার সকাল থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশনটি পরিচালনা করছিলেন। তবে সেটি প্রথমে ইমরান ও তার মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণে মুলতবী করা হয়। পরে ইফতার ও এশার নামাজের কারণে ফের মুলতবী করা হয়।

এরপর পাক প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাক আর্মির ত্রিপল ওয়ান ইনফন্ট্রি ব্রিগেড। আকাশে ওড়ানো হয় সামরিক হেলিকপ্টার। উচ্চ সতর্ক অবস্থান নিতে বলা হয় পাকি সেনাদেরও। আবার ইসলামাবাদের সড়কে নামানো হয় ছয়টি ট্যাংক।

এ অবস্থার মধ্যে প্রধান বিচারপতি মধ্যরাতেও আদালত খোলা রাখার নির্দেশনা দেন। বলেন, অনাস্থা ভোটগ্রহণ না হলে সেটা হবে আদালত অবমাননা।

শেষমেষ পদত্যাগী স্পিকার কায়সার বলেন, আমি সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ। এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি আর এই পদে থাকতে পারি না। তাই পদত্যাগ করছি। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক তার আসনে বসতে বলেন এবং অনাস্থা ভোট গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলেন। পরে রাত ১২টার পরপর তিনি অনাস্থা ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

গত রোববার ইমরানের ওপর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছিলেন পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। এরপর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার আইন সভা ভেঙে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে আইনসভাকে পুনরুজ্জীবিত করার রায় দেন এবং একই সঙ্গে শনিবার (০৯ এপ্রিল) অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে দেন।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী অধিবেশন বসলেও তা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মুলতবী করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি ও আর্মির চাপে পড়ে অনাস্থা ভোটেই যেতে হয় ইমরান খানকে।