নিকলীতে অবৈধ অটোরিকশার ছড়াছড়িতে বাড়ছে দুর্ঘটনা

- আপডেট সময় : ১১:০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
- / 150
মোঃ হাবিব মিয়া, নিকলী :
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৯৫ ভাগ তিন চাকার অবৈধ রিকশাই এখন ব্যাটারিচালিত। এসব রিকশা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন বাসিন্দারা। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
রিকশা চালাতে এখন আর বয়স বা চালকের শক্তি-সামথ্যের প্রয়োজন হয় না। সুইচ টিপে ধরলেই হাওয়ার বেগে চলতে শুরু করে এসব রিকশা।নিকলীর উপজেলার রাস্তাঘাট তুলনামূলক ভালো বলে হয়তো সেখানে ঝুঁকি কম থাকে।কিন্তু গ্রামের কাঁচা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে এসব দ্রতগতি সম্পন্ন রিকশা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।এই ব্যাটারিচালিত রিকশা আকার, ওজন ও গতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন।
চালকরা যান্ত্রিক সুবিধা পেয়ে স্বাভাবিক গতির চেয়ে অতিরিক্ত গতিতে চালান। এতে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। ঝাঁকুনির মাত্রা এত প্রবল হয়, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দ্রতগতিসম্পন্ন এই রিকশা মোড় ঘোরানোর সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সজীব ঘোষ বলেন, কোনো যানবাহনের অসহনীয় ঝাঁকুনিতে মানুষের শরীরের মেরুদন্ডের ক্ষতি হতে পারে। মেরুদন্ডের সমস্যার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এ সমস্যার কারণে মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
আগে প্যাডেল মেরে রিকশা চালিয়ে দিনে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা রোজগার হতো। পরিশ্রম হতো বেশি। প্রয়োজন থাকলেও শারীরিক অক্ষমতায় রিকশা চালানো যেত না। এখন কম পরিশ্রমে ভালোই রোজগার হয়। দিনে ৬০০-৭০০ টাকা আয় করা যায়। অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন রিকশা কিনছে। এসব রিকশার চালক বেশিরভাগই কিশোর বয়সের হওয়ায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। এ রিকশার সংখ্যা দিন দিন দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে। অবৈধ এসব যান চলাচল বন্ধ বা এর ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন। নিকলী সদর ইউনিয়নের ষাইটধার গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে মোঃ মারুফ (১২) যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা। সংসারের অভাবের কারণে সে বয়সেই শক্ত হাতে ধরতে হচ্ছে রিকসার হ্যান্ডেল।
গত সোমবার দুপুরে আল আলামীন বলেন, আমার বয়সের ছেলেদের সঙ্গে স্কুলে গিয়ে পড়তে ইচ্ছা হয়। কিন্ত তিন ভাই ,দুই বোন বাবা-মাসহ আট সদস্যের সংসার বাবার একা চালাতে পারছে না। ভাইদের মধ্যে আমিই বড়। সংসারের অভাব দুর করার জন্য আমি রিকসা চালিয়ে দৈনিক ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করে সংসারে দিয়ে বাবাকে একটু সাহায্য করছি। নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি কয়েক বার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় ওই ব্যাটারি চালিত রিকসা বন্ধের জন্য দাবি করেছি।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে আমরা অপ্রাপ্ত বয়সের চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া আক্তার বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রাপ্ত বয়সের চালকদের অভিভাবক ও তাদের শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনকে নিয়ে অচিরেই আলোচনা এবং সচেতনতামূলক সভা করবো। কিভাবে অপ্রাপ্ত বয়সের চালকদের নিয়ত্রণ করা যায়।
নিউজটি শেয়ার করুন
