ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৈধপথে রেমিট্যান্স আনার বড় বাধা সময় ও বাড়তি খরচ

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / 99
প্রবাসী কণ্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা: বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীরা ১০০ টাকায় ৫০ পয়সা কম পান। আর হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি পান। এছাড়া হুন্ডি কারবারিরা প্রবাসীদের স্বজনের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়। এ জন্য প্রবাসীরা বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে নিরুৎসায়িত হচ্ছে। আর এতে প্রবাসী আয় কমছে বলে, মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞারা।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) এটিএন বাংলার প্রধান কার্যালয়ে ডিবেট ফর ডেমেক্রেসির আয়োজিত প্রবাসী আয়ের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তারা এ কথা বলনে। তারা বলেন, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করতে হলে  ব্যাংকের সেবা প্রসার, প্রণোদনা হার বৃদ্ধি ও অর্থ প্রেরণের খরচ কমানো  কমাতে হবে।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, একজন প্রবাসী বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠালে ১০০ টাকায় ২ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনাসহ ১০২ টাকা ৫০ পয়সা পেয়ে  থাকেন। আর এ টাকা দেশে পাঠাতে খরচ হয় ৩ টাকার বেশি ব্যয় হয়। সেই হিসেবে শতকরা ৫০ পয়সা কমে যায়। হুন্ডির মাধ্যমে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে দেশে পাঠালে প্রবাসীরা শতকরা ৩/৪ টাকা বেশি পায়। এছাড়া যারা হুন্ডিতে টাকা প্রেরণ করে তারা কর্মীর কর্মস্থল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেশে তার পরিবার পরিজনের কাছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ পৌঁছে দেয়। এতে কর্মীর কষ্ট করে দূরে গিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করা লাগেনা এবং কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়না। এর ফলে প্রবাসীদরে বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে থাকে। আর কমছে প্রবাসী আয়। রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা প্রেরণ করলে কোন বাড়তি খরচ না কমানো হলে প্রবাসী আয় বাড়ব।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, ফরেন রেমিট্যান্সের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাস, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বায়রাকে সাথে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। প্রবাসী কর্মীদের দূতাবাসরে সেবা বাড়িয়ে বাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের সময় অযথা নানা রকম ফরম পূরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ব্যাংকগুলোকে তাদের সার্ভিস কর্মীদের ধোরগোড়ায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে সংশ্লিস্ট দেশের বন্ধের দিনেও কর্মীরা বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে। প্রবাসী আয়ের গতিশীলতা বৃদ্ধি শুধুমাত্র কর্মীর সদিচ্ছার ওপরে নির্ভর করে না। যত সহজে কর্মী বাজারমূল্যে ডলারের বিনিময় হারে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে, তত বেশি তারা বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাবে। ভারতের মত বাংলাদেশের কর্মীরাও যাতে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে তার উপার্জিত অর্থ নিমিষে পাঠাতে পারে তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে দৈনিক সমকালের  বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন ও এটিএন বাংলার এডিশনাল চিফ তাশিক আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বৈধপথে রেমিট্যান্স আনার বড় বাধা সময় ও বাড়তি খরচ

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকা: বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীরা ১০০ টাকায় ৫০ পয়সা কম পান। আর হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি পান। এছাড়া হুন্ডি কারবারিরা প্রবাসীদের স্বজনের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়। এ জন্য প্রবাসীরা বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে নিরুৎসায়িত হচ্ছে। আর এতে প্রবাসী আয় কমছে বলে, মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞারা।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) এটিএন বাংলার প্রধান কার্যালয়ে ডিবেট ফর ডেমেক্রেসির আয়োজিত প্রবাসী আয়ের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তারা এ কথা বলনে। তারা বলেন, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করতে হলে  ব্যাংকের সেবা প্রসার, প্রণোদনা হার বৃদ্ধি ও অর্থ প্রেরণের খরচ কমানো  কমাতে হবে।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, একজন প্রবাসী বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠালে ১০০ টাকায় ২ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনাসহ ১০২ টাকা ৫০ পয়সা পেয়ে  থাকেন। আর এ টাকা দেশে পাঠাতে খরচ হয় ৩ টাকার বেশি ব্যয় হয়। সেই হিসেবে শতকরা ৫০ পয়সা কমে যায়। হুন্ডির মাধ্যমে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে দেশে পাঠালে প্রবাসীরা শতকরা ৩/৪ টাকা বেশি পায়। এছাড়া যারা হুন্ডিতে টাকা প্রেরণ করে তারা কর্মীর কর্মস্থল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেশে তার পরিবার পরিজনের কাছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ পৌঁছে দেয়। এতে কর্মীর কষ্ট করে দূরে গিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করা লাগেনা এবং কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়না। এর ফলে প্রবাসীদরে বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে থাকে। আর কমছে প্রবাসী আয়। রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা প্রেরণ করলে কোন বাড়তি খরচ না কমানো হলে প্রবাসী আয় বাড়ব।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, ফরেন রেমিট্যান্সের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাস, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বায়রাকে সাথে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। প্রবাসী কর্মীদের দূতাবাসরে সেবা বাড়িয়ে বাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের সময় অযথা নানা রকম ফরম পূরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ব্যাংকগুলোকে তাদের সার্ভিস কর্মীদের ধোরগোড়ায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে সংশ্লিস্ট দেশের বন্ধের দিনেও কর্মীরা বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে। প্রবাসী আয়ের গতিশীলতা বৃদ্ধি শুধুমাত্র কর্মীর সদিচ্ছার ওপরে নির্ভর করে না। যত সহজে কর্মী বাজারমূল্যে ডলারের বিনিময় হারে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে, তত বেশি তারা বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাবে। ভারতের মত বাংলাদেশের কর্মীরাও যাতে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে তার উপার্জিত অর্থ নিমিষে পাঠাতে পারে তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে দৈনিক সমকালের  বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন ও এটিএন বাংলার এডিশনাল চিফ তাশিক আহমেদ বক্তব্য রাখেন।