কুয়েতে ১০ হাজার বাংলাদেশী বেকার, জীবন কাটছে মানবেতরভাবে

  • আপডেট সময় : ০২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
  • / 142
প্রবাসী কণ্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসী কণ্ঠ প্রতিবেদক :

কুয়েতের একাধিক কোম্পানীতে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক চাকরী হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চাকরী হারানোদের মধ্যে সম্প্রতি ৭-৮ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়া শ্রমিকরাও রয়েছেন। চোখেমুখে অন্ধকার দেখা এসব শ্রমিকরা উপায় খুজে বের করতে দেশটির  বাংলাদেশ দূতাবাসের শরনাপন্ন হয়েছেন। এরপরও যদি সমস্যার সমাধান না হবে, তাহলে এদের মধ্যে অনেক শ্রমিককেই দেশে ফিরে আসতে হতে পারে। এব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কিভাবে শ্রমিকের চাকরীতে পূর্নবহাল করানো যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানান তারা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়েতের রাজধানী ফরানিয়া এলাকায় থাকা আল জাহারা হাসপাতাল প্রজেক্টের অধীন ওয়েল আল নসিব, আল সাইটেস ও আল আবরাক কোম্পানীতে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করছিলেন। এরমধ্যে ওয়েল আল নসিবে ৪ হাজার, বাকী দুটি কোম্পানীতে ৩ হাজার করে ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। এসব কোম্পানীর সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে গত ৪ আগষ্ট থেকে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তারা বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছেন। কোম্পানী চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠাবে কি-না সেব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। চুক্তি শেষ হওয়ার ৫-৬ মাস আগেও এসব কোম্পানীতে বাংলাদেশ থেকে আরো ১৫০০ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এখন তারাও বেকারের তালিকায় পড়েছেন। তবে পুরাতনদের দেশে পাঠানো হলেও নতুন যারা গিয়েছেন তাদের ট্রান্সফার ফি নিয়ে এই কোম্পানীর আরো প্রজেক্টে তাদের কাজে যোগ দেয়ানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও এটি দেশটির লেবার আইনে নেই বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে কুয়েত থেকে ওয়েল আল নসিব কোম্পানীতে চাকরী হারিয়ে দিশেহারা একাধিক শ্রমিক নিজেদের নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হাসপাতাল ক্লিনিং কোম্পানীতে কাজ করা অবস্থায় চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে কন্ট্রাক্ট (চুক্তি) শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা সবাই বেকার বসে আছি। আমাদের কোম্পানীতে ৪ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো। এরমধ্যে ৩ হাজারই বাংলাদেশী শ্রমিক। বেকার হওয়ার কারণে শ্রমিকদের অনেকের দিন কাটছে দুর্বিসহভাবে। হাতে টাকা পয়সা নাই। এরমধ্যে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে ৩-৫ মাস আগে বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু কর্মী এসে কাজে যোগ দিয়েছিলো। তারাও এখন বেকার। কুয়েতে এই মুহুর্তে কতজন শ্রমিক বেকার রয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আল জাহারা কোম্পানীর অধীনে মোট ৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে যত শ্রমিক রয়েছে এরমধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার আছে বর্তমানে। নতুন ৩টি কোম্পানীর মধ্যে আল ফয়সাল ও আল জাবের হাসপাতালও রয়েছে। আপনারা কি এবিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে কোন অভিযোগ দিয়েছেন জানতে চাইলে শ্রমিকরা বলেন, দূতাবাসের কাছে আমরা মৌখিক জানিয়েছি। মিনিস্টার (লেবার) আবুল হোসেন আমাদেরকে জানিয়েছেন, আগে লিখিত অভিযোগ দাও তারপর আমরা দেখি করতে পারি সেটা পরে দেখা যাবে। তাদের মতে, যদি কোন সুরাহা না করা যাবে তাহলে অধিকাংশ শ্রমিককে দেশে ফিরে যেতে হবে। এরমধ্যে অনেকে যাবে খালী হাতে। তবে এই কোম্পানীর অধীনে আরো যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে ট্রান্সফার হওয়ার একটা সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে একজন শ্রমিককে নতুন করে কাজে যোগদান করতে হলে তাকে কুয়েতের ৪৬০ দিনার পরিশোধ করতে হবে। একদিনার সমপরিনাম ৩৬২ টাকা। তারমানে প্রায় পৌণে দুই লাখ টাকা করে অতিরিক্ত দিয়ে কাজে যোদ দিতে হবে। এভাবে কোম্পানী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। যা এই দেশের লেবার কোর্টে বিধান নাই।
গতকাল শনিবার দুপুরে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) আবুল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই বলেন, কুয়েতের ৬ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০ হাজারের মতো বাংলাদেশী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এমন কোন অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। তবে শুনেছি এমন সমস্যার কথা। তিনি বলেন, ওয়েল আল নসিবসহ যেসব কোম্পানী লেবার সাপাøাই দেয়ার জন্য কুয়েত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে ২-৩ বছরের জন্য চুক্তি করে থাকে। ওই সাপ্লাই কোম্পানীগুলো আবার কর্মীর সাথে আলাদাভাবে চুক্তি করে। বাংলাদেশ থেকে আবার এসব কোম্পানীতে লোক আনতে হয় রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে। শুনেছি, এরআগে যে কোম্পানী (আল জাহারা) টেন্ডার পেয়েছিলো এবার সেই কোম্পানী টেন্ডার পায়নি। যার কারণে সাপ্লাইয়ের কাজটি নতুন কোম্পানী পাওয়ায় তারাই নতুন করে কর্মী রিক্রুট করে আনবে। সেই হিসাবে আগের কোম্পানীতে কর্মরত শ্রমিকরা চুক্তি শেষ হওয়ায় তাদের হয় দেশে চলে যেতে হবে না হয় অন্য কোম্পানীতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই নিয়ম। অনেকে আবার স্বেচ্ছায় দেশেও চলে যায়। এক প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, আমরা কর্মীর সমস্যা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেই। তারা যদি আমাদের কাছে প্রতিকার চায় তাহলে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুয়েতে ১০ হাজার বাংলাদেশী বেকার, জীবন কাটছে মানবেতরভাবে

আপডেট সময় : ০২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩

প্রবাসী কণ্ঠ প্রতিবেদক :

কুয়েতের একাধিক কোম্পানীতে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক চাকরী হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চাকরী হারানোদের মধ্যে সম্প্রতি ৭-৮ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়া শ্রমিকরাও রয়েছেন। চোখেমুখে অন্ধকার দেখা এসব শ্রমিকরা উপায় খুজে বের করতে দেশটির  বাংলাদেশ দূতাবাসের শরনাপন্ন হয়েছেন। এরপরও যদি সমস্যার সমাধান না হবে, তাহলে এদের মধ্যে অনেক শ্রমিককেই দেশে ফিরে আসতে হতে পারে। এব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কিভাবে শ্রমিকের চাকরীতে পূর্নবহাল করানো যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানান তারা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়েতের রাজধানী ফরানিয়া এলাকায় থাকা আল জাহারা হাসপাতাল প্রজেক্টের অধীন ওয়েল আল নসিব, আল সাইটেস ও আল আবরাক কোম্পানীতে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করছিলেন। এরমধ্যে ওয়েল আল নসিবে ৪ হাজার, বাকী দুটি কোম্পানীতে ৩ হাজার করে ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। এসব কোম্পানীর সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে গত ৪ আগষ্ট থেকে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তারা বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছেন। কোম্পানী চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠাবে কি-না সেব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। চুক্তি শেষ হওয়ার ৫-৬ মাস আগেও এসব কোম্পানীতে বাংলাদেশ থেকে আরো ১৫০০ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এখন তারাও বেকারের তালিকায় পড়েছেন। তবে পুরাতনদের দেশে পাঠানো হলেও নতুন যারা গিয়েছেন তাদের ট্রান্সফার ফি নিয়ে এই কোম্পানীর আরো প্রজেক্টে তাদের কাজে যোগ দেয়ানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও এটি দেশটির লেবার আইনে নেই বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে কুয়েত থেকে ওয়েল আল নসিব কোম্পানীতে চাকরী হারিয়ে দিশেহারা একাধিক শ্রমিক নিজেদের নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হাসপাতাল ক্লিনিং কোম্পানীতে কাজ করা অবস্থায় চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে কন্ট্রাক্ট (চুক্তি) শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা সবাই বেকার বসে আছি। আমাদের কোম্পানীতে ৪ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো। এরমধ্যে ৩ হাজারই বাংলাদেশী শ্রমিক। বেকার হওয়ার কারণে শ্রমিকদের অনেকের দিন কাটছে দুর্বিসহভাবে। হাতে টাকা পয়সা নাই। এরমধ্যে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে ৩-৫ মাস আগে বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু কর্মী এসে কাজে যোগ দিয়েছিলো। তারাও এখন বেকার। কুয়েতে এই মুহুর্তে কতজন শ্রমিক বেকার রয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আল জাহারা কোম্পানীর অধীনে মোট ৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে যত শ্রমিক রয়েছে এরমধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার আছে বর্তমানে। নতুন ৩টি কোম্পানীর মধ্যে আল ফয়সাল ও আল জাবের হাসপাতালও রয়েছে। আপনারা কি এবিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে কোন অভিযোগ দিয়েছেন জানতে চাইলে শ্রমিকরা বলেন, দূতাবাসের কাছে আমরা মৌখিক জানিয়েছি। মিনিস্টার (লেবার) আবুল হোসেন আমাদেরকে জানিয়েছেন, আগে লিখিত অভিযোগ দাও তারপর আমরা দেখি করতে পারি সেটা পরে দেখা যাবে। তাদের মতে, যদি কোন সুরাহা না করা যাবে তাহলে অধিকাংশ শ্রমিককে দেশে ফিরে যেতে হবে। এরমধ্যে অনেকে যাবে খালী হাতে। তবে এই কোম্পানীর অধীনে আরো যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে ট্রান্সফার হওয়ার একটা সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে একজন শ্রমিককে নতুন করে কাজে যোগদান করতে হলে তাকে কুয়েতের ৪৬০ দিনার পরিশোধ করতে হবে। একদিনার সমপরিনাম ৩৬২ টাকা। তারমানে প্রায় পৌণে দুই লাখ টাকা করে অতিরিক্ত দিয়ে কাজে যোদ দিতে হবে। এভাবে কোম্পানী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। যা এই দেশের লেবার কোর্টে বিধান নাই।
গতকাল শনিবার দুপুরে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) আবুল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই বলেন, কুয়েতের ৬ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০ হাজারের মতো বাংলাদেশী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এমন কোন অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। তবে শুনেছি এমন সমস্যার কথা। তিনি বলেন, ওয়েল আল নসিবসহ যেসব কোম্পানী লেবার সাপাøাই দেয়ার জন্য কুয়েত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে ২-৩ বছরের জন্য চুক্তি করে থাকে। ওই সাপ্লাই কোম্পানীগুলো আবার কর্মীর সাথে আলাদাভাবে চুক্তি করে। বাংলাদেশ থেকে আবার এসব কোম্পানীতে লোক আনতে হয় রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে। শুনেছি, এরআগে যে কোম্পানী (আল জাহারা) টেন্ডার পেয়েছিলো এবার সেই কোম্পানী টেন্ডার পায়নি। যার কারণে সাপ্লাইয়ের কাজটি নতুন কোম্পানী পাওয়ায় তারাই নতুন করে কর্মী রিক্রুট করে আনবে। সেই হিসাবে আগের কোম্পানীতে কর্মরত শ্রমিকরা চুক্তি শেষ হওয়ায় তাদের হয় দেশে চলে যেতে হবে না হয় অন্য কোম্পানীতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই নিয়ম। অনেকে আবার স্বেচ্ছায় দেশেও চলে যায়। এক প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, আমরা কর্মীর সমস্যা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেই। তারা যদি আমাদের কাছে প্রতিকার চায় তাহলে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।