ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে কোনো সংকট তৈরী হলে সেটি মোকাবিলায় প্রস্তুত র‍্যাব

  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৩
  • / 110
প্রবাসী কণ্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৩, দুপুর ১২টা

নতুন বছরে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে বা কোনো সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান-২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গুলশান-বারিধারা কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার পেছনে কোনো ধরণের হুমকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, নিঃসন্দেহে গুলশান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস ও ফাইভ স্টার হোটেল সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস রয়েছে। তাই সব কিছুর হিসেব করে আমরা সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি।

নববর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এগুলো সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থানে ও ছাদে কোনো ধরণের অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলে অনুষ্ঠানে বাধা নেই।

নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় কী ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি আছে। নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচারা দিয়ে উঠলে বা কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় তৈরি রয়েছে। আমরা সব সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। যে সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে তারাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা সে অনুযায়ী নিরাপত্তা সাজিয়ে থাকি।

র‌্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সমগ্র দেশে র‌্যাবের গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল প্রস্তুত রয়েছে। সব ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ইউনিফর্ম টহল বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সাইবার নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও, গৃহীত নিরাপত্তা কার্যক্রমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসানোসহ যানবাহন ও পথযাত্রীদের তল্লাশিপূর্বক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। র‌্যাবের টহল/চেকপোস্ট জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড দ্বারাও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সারাদেশে ভিভিআইপি/ভিআইপি, বিদেশী কূটনৈতিক মিশন এলাকায় গুরুত্বের সাথে নিরাপত্তার বিধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ অন্যান্য এলাকায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারীরা ৩১ ডিসেম্বরের যাতায়াত সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

নতুন বছর উদযাপন হোটেলের অভ্যন্তরে নিয়ম মেনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা যাবে। এছাড়া পাবলিক প্লেসে বা খোলা স্থানে বা বাসার ছাঁদে ডিজে পার্টি, আতশবাজি-ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের উচ্ছৃঙ্খলতা, মাদকাসক্ততা প্রতিরোধকল্পে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং হচ্ছে।

উচ্চস্বরে গাড়ির হর্ন বাজানো ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো থেকে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বিরত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো নারী যাতে ইভটিজিং অথবা সম্মানহানি না হন সে দিকে বিশেষভাবে সতর্ক দৃষ্টি রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামালার তথ্য নেই, তবে র‌্যাব ফোর্সেস সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাবের হেলিকপ্টার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড টিম ও ক্রাইম সিন ভ্যানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কৌশলগত স্থানে থেকে সার্বক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার বিধানে নিয়োজিত করা হয়েছে।

‘ইংরেজি নববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সবার সহযোগীতা একান্তভাবে কাম্য। এছাড়াও উক্ত সময়ে যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জেলা/মেট্রোপলিটন এলাকা/থানা ভিত্তিক স্থানীয় র‌্যাবের সহযোগিতা পেতে টহল ইনচার্জ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত র‌্যাব ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে অবহিতকরণসহ র‌্যাবকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা পোষ্ট.কম

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নতুন বছরে কোনো সংকট তৈরী হলে সেটি মোকাবিলায় প্রস্তুত র‍্যাব

আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৩

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৩, দুপুর ১২টা

নতুন বছরে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে বা কোনো সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান-২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গুলশান-বারিধারা কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার পেছনে কোনো ধরণের হুমকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, নিঃসন্দেহে গুলশান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস ও ফাইভ স্টার হোটেল সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস রয়েছে। তাই সব কিছুর হিসেব করে আমরা সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি।

নববর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এগুলো সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থানে ও ছাদে কোনো ধরণের অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলে অনুষ্ঠানে বাধা নেই।

নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় কী ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি আছে। নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচারা দিয়ে উঠলে বা কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় তৈরি রয়েছে। আমরা সব সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। যে সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে তারাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা সে অনুযায়ী নিরাপত্তা সাজিয়ে থাকি।

র‌্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সমগ্র দেশে র‌্যাবের গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল প্রস্তুত রয়েছে। সব ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ইউনিফর্ম টহল বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সাইবার নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও, গৃহীত নিরাপত্তা কার্যক্রমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসানোসহ যানবাহন ও পথযাত্রীদের তল্লাশিপূর্বক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। র‌্যাবের টহল/চেকপোস্ট জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড দ্বারাও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সারাদেশে ভিভিআইপি/ভিআইপি, বিদেশী কূটনৈতিক মিশন এলাকায় গুরুত্বের সাথে নিরাপত্তার বিধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ অন্যান্য এলাকায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারীরা ৩১ ডিসেম্বরের যাতায়াত সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

নতুন বছর উদযাপন হোটেলের অভ্যন্তরে নিয়ম মেনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা যাবে। এছাড়া পাবলিক প্লেসে বা খোলা স্থানে বা বাসার ছাঁদে ডিজে পার্টি, আতশবাজি-ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের উচ্ছৃঙ্খলতা, মাদকাসক্ততা প্রতিরোধকল্পে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং হচ্ছে।

উচ্চস্বরে গাড়ির হর্ন বাজানো ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো থেকে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বিরত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো নারী যাতে ইভটিজিং অথবা সম্মানহানি না হন সে দিকে বিশেষভাবে সতর্ক দৃষ্টি রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামালার তথ্য নেই, তবে র‌্যাব ফোর্সেস সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাবের হেলিকপ্টার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড টিম ও ক্রাইম সিন ভ্যানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কৌশলগত স্থানে থেকে সার্বক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার বিধানে নিয়োজিত করা হয়েছে।

‘ইংরেজি নববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সবার সহযোগীতা একান্তভাবে কাম্য। এছাড়াও উক্ত সময়ে যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জেলা/মেট্রোপলিটন এলাকা/থানা ভিত্তিক স্থানীয় র‌্যাবের সহযোগিতা পেতে টহল ইনচার্জ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত র‌্যাব ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে অবহিতকরণসহ র‌্যাবকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা পোষ্ট.কম