বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২১ অপরাহ্ন
নোটিস :
Wellcome to our website...

১১ শ কোটি টাকা গচ্চা থেকে ‘শিক্ষা নিয়েছে’ বিমান

রিপোর্টার / ৬৯ বার
আপডেট : বুধবার, ১ জুন, ২০২২

মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজে নিয়ে ১১ শ কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ার ঘটনা থেকে ‘শিক্ষা নিয়েছে’ বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ভবিষ্যতে আর এ পদ্ধতিতে লিজে কোনো উড়োজাহাজ নেয়া হবে না বলে জানায় তারা।

বিমান জানায়, সে জন্য লিজিং পলিসি তৈরি করা হয়েছে যাতে বিমানের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। কোনো দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার তা করা হচ্ছে।

তারা জানায়, নানা অনিয়ম ও চোরাচালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গত এক বছর ১৭৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫২ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার বিমানবন্দরে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ট্রেনিং সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মতবিনিময় সভায় বিমানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালক (পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর (অব.) মো. মাহবুব জাহান খান ,পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাহকসেবার পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ যাহিদ হোসেন, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এয়ার কমোডর মৃধা মো. একরামুজ্জামান, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. নওসাদ হোসেন, চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন এনামুল হক তালুকদার, বিএফসিসির মহাব্যবস্থাপক শামসুল করিম, মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার প্রমুখ।

তারা সবাই নিজ নিজ বিভাগের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় সাংবাদিকরা বিমানকে আনো সংবাদমাধ্যম বান্ধব হওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বিমানের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসের জনসংযোগ শাখাকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে আউটসোর্সিং করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পক্ষে মত দেন সাংবাদিকরা।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, বিমান পর্যায়ক্রমে লিজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে। এ কারণে এবারের কোনো এয়ারক্রাফট লিজ না নিয়ে নিজস্ব এয়ারক্রাফট দিয়েই হজ পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, ইস্তাম্বুল হয়ে ২৮ জুন থেকে টরেন্টো ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এখনো টিকিট বিক্রির বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব  হয়নি। ফলে নিজেদের ওয়েবসাইট ছাড়া এ রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারছে না বিমান।

তিনি বলেন, ‘বিলিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট  প্ল্যানিং (এজেন্সি) হয়নি, এ কারণে এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে না। টিকিট ছাড়তে পারছি না। কারণ, বিলিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্ল্যানিংয়ের সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির একটা সম্পর্ক আছে। সমন্বয়ের জন্য যে বিজনেস লাইসেন্স লাগে, সেটি এখনো পাইনি। এসব না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। কেবল ওয়েবসাইটের টিকিট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব না’।

তিনি আরো বলেন, বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়ে এ বছর হজ যাত্রী পরিবহন করা হবে। যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৬৫টি করে মোট ১৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজের প্রথম ফ্লাইট যাবে ৫ জুন। সবগুলো ডেডিকেটেড ফ্লাইট হবে। জেট ফুয়েলের দাম বাড়লেও নতুন করে বিমানের ভাড়া বাড়ানো হবে না।

আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, অন্যান্য বছর হজ যাত্রী পরিবহনে বিমান দুই থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত সময় পেত। এবার এক মাসেরও কম সময় পেয়েছি। নির্ধারিত সময় তথা ৫ জুন থেকেই হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এবার কোনো উড়োজাহাজ লিজ নেয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকবার হজের শুরুতে যাত্রী কত হবে সেটা অনিশ্চিত থাকে। এবারও তাই ছিল। এ কারণে দুটি বিমান লিজ নেয়ার কথা ছিল। তবে এবারের যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ায় আমাদের আর উড়োজাহাজ ভাড়া করতে হচ্ছে না।

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিমান ভাড়া বাড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। এবার ২৯ হাজার হজ যাত্রী বহন করব। এর মধ্যে সরকারিভাবে যাত্রী থাকবেন ৪ হাজার ৫৬৪ জন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত এক বছরে নানা অনিয়মের কারণে ২০২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭৮ জনকে শাস্তির পাশাপাশি ৫২ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে বরখাস্ত করা ছাড়াও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পরিচালক এয়ার কমোডর মাহবুব জাহান খান বলেন, করোনা সময়েও বিমান লাভ করেছে। কার্গো ব্যবসা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। কোনো এয়ারক্রাফট বিক্রি করতে হয়নি। কাউকে ছাঁটাই করতে হয়নি। অথচ বিশ্বের অনেক নামীদামি এয়ারলাইনস কর্মী ছাঁটাই ও উড়োজাহাজ বিক্রি করে দিয়েছে। অনেকে দেউলিয়া হয়ে গেছে। আজ আমরা নিজেদের বহর দিয়েই হজ পরিচালনা করতে যচ্ছি। লিজ থেকে বেরিয়ে এসে ওনারশিপের দিকে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি।

২০১৪ সালে মার্চ ও মে মাসে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেয় বিমান। ওই দুটি উড়োজাহাজ ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বিমানের তাতে লোকসান হয় বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়।

পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ দুটি লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে।

তবে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

এ দুটো উড়োজাহাজের পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের নিট ক্ষতি হয়েছে ১১ শ কোটি টাকা বলে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর