শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

মিশরে ‘জাল ভিসা’ চক্র সক্রিয়

ছবি-সংগৃহিত

 

প্রবাসী কণ্ঠ প্রতিবেদক:

 

মিশরে বাংলাদেশী পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগানোর চক্র দীর্ঘদিন থেকেই সক্রিয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই চক্রের বিরুদ্ধে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দুতাবাস থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে মিশর বিমাবন্দর থেকে এই চক্রের এক সদস্যকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এদিকে মিশরের বাংলাদেশ দুতাবাসে পাসপোর্ট রিনিউ, রি-ইস্যু করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেক প্রবাসী। এরমধ্যে কারো কারো সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় ইচ্ছা করে ওই সব কর্মীর পাসপোর্ট নানা অজুহাত আটকে রাখা হচ্ছে বলে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৮ আগষ্ট) মিশর থেকে প্রতারিত ও ভ’ক্তভোগী বাংলাদেশী কর্মীদের কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে প্রবাসী কণ্ঠ কে আপেক্ষ করে বলেন, দুতাবাস হচ্ছে প্রবাসী আমরা যারা বসবাস করছি তাদের সেবা দেয়ার জন্য। কিন্তু স্টাফদের হাতে উল্টো সেবার বদলে আমাদেরকে প্রায় নানাভাবে হয়রানী হতে হচ্ছে।

প্রায় আড়াই মাস ভোগান্তির পর গত দুদিন আগে পাসপোর্ট হাতে পান মো. মনির হোসেন নামের একজন প্রবাসী শ্রমিক। তিনি ডেল্টা নামের একটি গার্মেন্টে চাকরী করেন। তার উর্দ্ধতি দিয়ে জনৈক একজন প্রবাসী শ্রমিক নাম না জানিয়ে বলেন, মনির হোসেনের পাসপোর্ট আড়াই মাস আগে মিশরে হারিয়ে যায়। কিন্তু তার পাসপোর্টে মেয়াদ আছে। এরজন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে তিনি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর জন্য জমা দিয়ে আসেন দুতাবাসে। কিন্তু মনির হোসেনের পাসপোর্ট হয়েছে কি-না এনিয়ে দুতাবাসের পাসপোর্ট সেকশনে দফায় দফায় ফোন দিলেও সেখান থেকে কোন সাড়া মেলে না। শুধু বলা হয়, পাসপোর্ট আসে নাই। এয়ারপোর্টে আটকে আছে। অথচ তার আগের এবং পরের সিরিয়ালের পাসপোর্ট ডেলীভারী হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, শ্রমিক মনির হোসেনের সাথে দুতাবাসের একজন পিয়নের সাথে তর্ক করার একটি ঘটনা হয়েছিলো। সেই ক্ষোভে মনির হোসেনের পাসপোর্ট ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ তার। অনেকদিন ঘুরানোর পর দুদিন আগে মনির হোসেনের পাসপোর্ট দুতাবাস থেকে দেয়া হয়। শুধু মনির হোসেন নয় দুতাবাসের গড়ে উঠা ‘সিন্ডিকেটের’ কথা মতো শ্রমিকদের কাজ না করলে অনেককেই হয়রানী পোহাতে হয়। এটা মিশর দুততাবাসে ওপেন সিক্রেট ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।

এপ্রসঙ্গে দুতাবাসের শ্রম উইংয়ের কাউন্সেলর ইসমাইল হোসেন এর সাথে আজ দুপুরে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে মিশরে বাংলাদেশী পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগানোর একটি চক্র তৈরী হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক মাস আগে জাল ভিসা নিয়ে একজন শ্রমিক বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্য মিশর এয়ারপোর্টে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে অনুসন্ধান করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই কর্মীর পাসপোর্টে থাকা ভিসাটি জাল। পরে তার কাছ থেকে এসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে মোস্তফা নামের এক জালীয়াত চক্রকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ওই মোস্তফা কায়রো জেলে রয়েছে। তার সহযোগী জুয়েলসহ দুজন পলাতক রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মিশর থেকে একাধিক বাংলাদেশী প্রবাসী কণ্ঠকে বলেন, প্রায় ৮-৯ বছর ধরে ভিসা জালীয়াত চক্র মিশরে সক্রিয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দুতাবাস থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। এরমধ্যে ৭৫ গ্রুপের জুয়েলসহ অনেকেই সক্রিয়। তাদের মধ্যে থেকে কাউকে কাউকে বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, মূলত মিশরীয়দের দিয়ে বাংলাদেশী জাল ভিসা বানানোর কাজ কারবার চলছে। একই চক্র বাংলাদেশ থেকে লোক এনে লিবিয়াতে মানবপাচারের সাথেও জড়িত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।

তাদের দাবী, যারা মিশরে থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জাল ভিসা দিয়ে বেকায়দায় ফেলছে, বাংলাদেশের ইমেজ সংকটে ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে অন্তত দুতাবাস থেকে তদন্ত করে যেনো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়। তারা চান মান সম্মান নিয়ে বিদেশের মাটিতে বাচতে। জালীয়াত চক্র মোস্তফার স্ত্রী মিশরীয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির কয়েকজন।

প্রকাশ : ১৮ আগষ্ট ২০২১, সময় দুপুর ১ টা ২৫ মিনিট

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুন

© All rights reserved © Zahir-01743535311