শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে এবার কর্মী আনার সুযোগ নেই – ডা. শংকর

ফাইল ছবি

 

প্রবাসী কণ্ঠ প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দিশেহারা মানুষ। একই সাথে রাজনৈতিক অবস্থাও টালমাটাল। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগের সম্ভবনা খুবই কম দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ডা. শংকর চন্দ্র পোদ্দার।
আজ (১৮ আগষ্ট) বিকেলে প্রবাসী কণ্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশকিছু দিন ধরে জটিল আকার ধারন করে আছে। নতুন করে কে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তা বলা অনেকটা মুশকিল। তারপরও পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে উমনো পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আহমাদ জাহিদ হামিদি, ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব এর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের দুজনের মধ্যে একজনের আসার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশী। অপরদিকে আনোয়ার ইব্রাহিমের ফিল্ড ভালো থাকলেও তার ভোট পাওয়ার সম্ভবনা কম। এক্ষেত্রে মাহাথির মোহাম্মদ রয়েছেন এখন নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
ড.শংকর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত এমপিদের অনলাইন (লিখিত ভোটগুলো হোয়াটস অ্যাপ, ফ্যাক্স, ইমেইল ও ম্যাসেজিং) এর মাধ্যমে ভোট জমা দিতে বলা হয়েছে স্পীকারের ব্যক্তিগত সচিবের কাছে। গোপন ব্যালটে এমপিদের ভোটাভুটি সম্পন্ন হলে দেশটির রাজা আজ অথবা আগামীকাল চুড়ান্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষনা করবেন বলে শুনেছি।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. শংকর চন্দ্র পোদ্দার প্রবাসী কণ্ঠকে বলেন, মালয়েশিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে যিনিই আসুন, তারপরও এই মুহুর্তে বিদেশী ওয়ার্কার আনার কোন সুযোগ আমি দেখছি না। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কেবল মালয়েশিয়া সরকার শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করতে পারে। তবে এই মুহুর্তে তারা একটা বিষয় নিয়ে বেশী ভাবছে। আর সেটি হচ্ছে রাজনীতি।
তিনি বলেন, করোনায় মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং বিদেশী অনেক কর্মী চাকরী হারিয়েছে। অনেকে দেশে ফেরত চলে গেছে। যদিও মালয়েশিয়াতে এখনো প্লানটেশন ও রাবার গ্লোভস ফ্যাক্টরীতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে। তার মতে, কোডিভ-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের পর বাংলাদেশের শ্রমবাজার যদি খোলার সিদ্ধান্ত নেয়াও হয়, সেই ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে শ্রমিক আনার কোন ধরনের সুযোগ থাকছে না এবার। কারণ মালয়েশিয়ার হিউম্যান ট্রাফিকিং টায়ার ওয়াচ-২ থেকে ৩য় স্তরে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় মালয়েশিয়াতে জিরো মাইগ্রেশন  কষ্ট ফলো করতেই হবে। নতুবা কোম্পানীগুলোর প্রডাক্টের এক্সপোর্ট বিঘিœত হবে।
সেক্ষেত্রে করনীয় কি হতে পারে- জানতে চাইলে অভিবাসন বিশ্লেষক ডা. চন্দ্র পোদ্দার বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও কোন প্রকার সিন্ডিকেট করে কর্মী আনা যাবে না। কর্মী আনলে বিনা পয়সায় আনতে হবে। মানে জিরো কষ্ট এ। এবার মালয়েশিয়া সরকারও মনে হয় এটাই চাচ্ছে। এব্যাপারে আমাদের সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

 

প্রকাশ : ১৮ আগষ্ট ২০২১, সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুন

© All rights reserved © Zahir-01743535311