রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

কুয়েতের আদালত এবারো পাপুলকে জামিন দেননি

 

কুয়েত থেকে মো. জালাল উদ্দিন:

 

 

মানবপাচার ও মানিলন্ডারিং মামলায় কুয়েতের কারাগারে আটক এমপি পাপুলকে দেশটির আদালত এবারো জামিন দেননি। শুনানী শেষে বিচারক ২৬ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।

জানা যায়, ১৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাপুলকে আদালতে আনা হয়। বিচারক আব্দুল্লাহ ওসমান এর এজলাসে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবীরা জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে পরবর্তী শুনানির দিন ২৬ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেন। মামলার যুক্তিতর্ক একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে আদালতের সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

এরআগে ১৫ জুন পাপুলকে কারাগারে পাঠানোর পর ২৫ জুন, ৯ জুলাই, ১৯ জুলাই, ২৭ জুলাই, ৯ আগস্ট, ২৩ আগস্ট, ১৭ সেপ্টম্বর, ২২ অক্টোম্বর, ৫ নভেম্বর, ১২ নভেম্বর এবং ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পাপুলকে মহামান্য বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এই নিয়ে মোট ১১ বার তাকে আদালতের সামনে হাজির করা হয়। শুননিতে এমপি পাপুলের আইনজীবিরা তার মক্কেল এসব বেআইনী অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

মানব পাচার ও মানি লন্ডারিং মামলায় এমপি পাপুলের সাথে অভিযুক্ত কোন আসামিকে জামিন না দিয়ে শুনানির সর্বশেষ পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে পাপুলসহ সকলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক ।
আদালতের উর্দ্ধতি দিয়ে স্থানীয় গনমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আদালতে পাপুলকে বিমূর্ষ দেখা যাচ্ছিল। হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে আদালতে আনা হয়। একই সাথে পাপুলকে এক কালারের জেলখানার পোশাক পরিহিত দেখা গিয়েছে। পাপুলের মামলা নাম্বার ৯২৪১/২০২০
লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিটধারী একজন ব্যবসায়ীও। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতীর অভিযোগ ওঠে গত ফেব্রুয়ারীতে। তখন তাকে আটকের জন্য কুয়েতের সিআইডি অভিযানও চালিয়েছিলো। তখন তার দুই সহযোগী গোয়েন্দা জালে আটকা পড়লেও তিনি কৌশলে ঢাকায় পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে তিনি কুয়েতে গেলে (গত ৬ জুন) সিআইডির একটি দল তাকে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেন। ১০দিন রিমান্ডে থাকার পর জামিন না দিয়ে তাকে ১৪ জুন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। রিমান্ডে তিনি তার সহযোগী দেশি-বিদেশি অনেকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সিআইডি আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে জানায়।

এ নিয়ে বাংলাদেশেও পাপলু এর বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা পরিচালিত হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার শ্যালিকার অন্তত ৪৪টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুন

© All rights reserved © Zahir-01743535311