জেদ্দার কাউন্সেলরকে দেশে ফেরাতে রাষ্ট্রদূতের চিঠি সাড়া মেলেনি দু’মাসেও

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের কাউন্সেলর আমিনুল ইসলামকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবকে চিঠি দেয়ার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ওই কাউন্সেলরের ব্যাপারে মন্ত্রনালয় থেকে প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সৌদি আরবের বাংলাদেশ দুতাবাস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান এর কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে ২১ লাখ বাংলাদেশী নানা পেশায় কাজ করছেন। প্রায় আড়াই লাখ নারী গৃহকর্মী সৌদি আরবে বর্তমানে কর্মরত। সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীকে সেবা প্রদানে শ্রম উইংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রেক্ষিতে দুতাবাস ও জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানে তৎপর থাকতে হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে কিছুদিন ধরে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সেলর আমিনুল ইসলামের নামে বাংলাদেশ কমিউনিটির অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগ জানাচ্ছেন। সেবা গ্রহণ করতে আসা বাংলাদেশীরা কাউন্সেলর এর দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দীনও মন্ত্রনালয়কে অবহিত করেছেন। চিঠিতে দাবী করা হয়, কাউন্সেলর আমিনুল ইসলামের আচরনে কনস্যুলেটের ভাবমুর্তি ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শ্রম উইংয়ের নিয়মিত কার্যক্রম অনেকটাই স্লথ হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে তার পরিবর্তে একজন নতুন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চিঠিতে রাষ্ট্রদূত অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক ও মহা পরিচালক মো. আমানুল হকের (পশ্চিম এশিয়া) কাছে দেয়া হয়েছে।

আজ দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান এর সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বৃৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ প্রবাসী কণ্ঠকে বলেন, আমার দায়িত্ব চিঠি দেয়া। এব্যাপারে ডিসিশন কি নেবে সেটি মন্ত্রনালয়ের বিষয়। এটা আমার আন্ডারে না, ডাইরেক্ট জেদ্দার আন্ডারে। এখন মন্ত্রনালয় কি করেছে সেটি আর ফলোআপ করিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কাউন্সেলর আমিনুল ইসলামের বিষয়ে সেখান কনসাল জেনারেল রিপোর্ট দিয়েছে। সেভাবে আমি চিঠিটি দিয়েছি।