অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে নরওয়ের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক:
নরওয়েতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২৯ জুন এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক নরওয়েতে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের জন্য যাচ্ছেন। সেখানে এই চুক্তি সই হবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েল এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য যে চুক্তি সই করেছি, ঠিক একই চুক্তি নরওয়ের সঙ্গে হবে।’

নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়েগার স্ট্রোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কী আলোচনা হবে—জানতে চাইলে সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে তথ্য আদান-প্রদান, নরফান্ড থেকে বিনিয়োগ, সুমদ্র অর্থনীতিসহ অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।’

নরওয়ে প্রথম থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। তাদের কাছে রাজনৈতিক সমর্থন চাওয়া হবে বলে জানান আরেকজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেবেন। নলেজ শেয়ারিংয়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি চুক্তি সই করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আমরা চাই দ্রুত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাই। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের একটি চুক্তি আমাদের আছে। তাদের উন্নত জ্ঞান আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য আহ্বান জানাবো।’

প্রসঙ্গত, নরওয়ের বিনিয়োগ ফান্ড হচ্ছে নরফান্ড। এটি টেলিকম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শেয়ার বাজারসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করেছে। এ প্রসঙ্গে সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নরফান্ডের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে গ্রামীণফোন এবং তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী। জাহাজ নির্মাণ আরেকটি বড় খাত। কারণ আমরা ইতোমধ্যে নরওয়েতে ফিশিং ট্রলার সরবরাহ করেছি।’ সমুদ্র অর্থনীতিতে নরওয়ে অনেক এগিয়ে আছে এবং ঢাকা এক্ষেত্রে অসলোর সহযোগিতা চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বছরের মধ্যে নরওয়ে থেকে একটি জাহাজ আসবে, যেটি বঙ্গোপসাগরে কোথায় কী ধরনের মাছ পাওয়া যায়, সেটি নিয়ে একটি গবেষণা করবে এবং তার রিপোর্ট বাংলাদেশকে দেবে।

এই প্রসঙ্গে সরকাররে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই রিপোর্ট পেলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে। এর ফলে এতবড় বঙ্গোপসাগরে কোথায় কী মাছ পাওয়া যায়, তা জানা যাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের মৎস্য খাতের ব্যবসায়ীরা মাছ ধরতে পারবেন।’ সুত্র: Bangla Tribune