মালয়েশিয়ায় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে গিয়েও বিপদে শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,মালয়েশিয়া থেকে

এক শ্রেনীর রিক্রুটিং এজেন্সির অতি মুনাফার কারণে মালয়েশিয়ায় সরকারি ও বেসরকারী উদ্যোগে কর্মী পাঠানোর যৌথ উদ্যোগ জিটুজি প্লাস (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট+) পদ্ধতি ভেস্তে যেতে বসেছে বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের আশংকা।

কম খরচ ও অপেক্ষাকৃত বেশি বেতনে কর্মী পাঠানো সরকারের এই উদ্যোগকে ব্যর্থ করতে নানামুখী অপতৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ে ও বাংলাদেশ সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পাস কাটিয়ে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রেখেছে কপিতয় ব্যবসায়ী। এতে প্রতারনার শিকার হচ্ছেন গ্রামের অসহায় নিরীহ মানুষগুলো। পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সম্ভবনাময় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর স্বাভাবিক গতিও। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় আসা প্রতারিত কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এসব অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে মালয়েশিয়ায় নতুন পদ্ধতিতে শ্রমিক আসার পর থেকে অদ্যাবধি অনেক কোম্পানীতে কর্মীরা নানান ধরনের সমস্যায় রয়েছে। তবে তাদের যারা পাঠিয়েছে তারা তাদের খোজও রাখছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ ঢাকার নয়া পল্টনের আল ইসলাম ওভারসীসের পাঠানো ৩৯ জন কর্মী কোম্পানীতে আসলেও তাদের কেউ ৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না বলে এক শ্রমিকের পিতা জনশক্তি ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগের সুরাহা করার জন্য মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। সেটির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এপ্রসঙ্গে আজ শুক্রবার অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সী আল ইসলাম ওভারসীস এর স্বত্তাধিকারী জাফর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার হাইকমিশনের সামনে শ্রমিকদেও সাথে প্রতিবেদকের কথা হয়। এসময় তারা দীর্ঘ ৫ মাসের কস্টের কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারা অভিযোগ করে জানায়, জনশক্তি রফতানিকারক আল ইসলামের লোকজনের হাতে জন প্রতি সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়ে এরপর তারা মালয়েশিয়ায় এসেছে। থাকা খাওয়া তো দূরে থাক, ৫ মাস ধরে কোন কাজ নেই। বাড়িতে তারা পর্যন্ত কোন টাকাই পাঠাতে পারেননি। শ্রমিক জসিম জানান, পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে তার বাবা সমস্যার কথা উল্লেখ করে জনশক্তি ব্যুরোতে অভিযোগ দেয়।

মালয়েশিয়ার মেলাক্কা শহরের জালান টেক, তামান আয়ের কেরাহ হাইট এলাকার মোহামেদ রেশা বেরাকাত এসডি এন বিএইচডি। কুয়ালালামপুর থেকে ৩ শ’ কিলোমিটার দূরের এই কোম্পানীতে তারা কাজ করতে এসেছে।

মন্ত্রনালয় সুত্রে জানা গেছে, বি-বাড়িয়ার জসিম উদ্দিনের বাবা ঢাকার জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের গত ১১ এপ্রিল। কর্মসংস্থানের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মুহাম্মদ আতাউর রহমান এই ৩৯ জন কর্মীর ৫ মাসের বেতন ভাতা না দেয়ার কারন ও অসহায় কর্মীর কাজের ব্যবস্থাসহ গৃহিত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলরের কাছে লিখিত নোটিশ পাঠান।

হাইকমিশনে খোজ নিতে গেলে জানা যায় বি-বাড়িয়ার জসিম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, মো: বশির মিয়া, কুমিল্লার ফারুক, নাসু মিয়া, শামীম,সজীব, তোতা মিয়া, ফয়সল সুমন, ভোলার আজাদ, শরিফ, জাকির, আব্দুস সাওার। পাবনার আইনুল, যশোরের তবিকুর, ফারুক। চাদপুরের মমিন মিয়া, চুয়াডাঙ্গার আব্দুর রহিম,হাবিবুর সুহেল, নাসিম। বাগেরহাটের জাহাঙ্গীর, নোয়াখালীর নাসির চট্টগ্রামের হেফাজ উদ্দিন, কিশোর গঞ্জের শফিকুল ইসলামসহ প্রায় ৩৯ জন শ্রমিক সংসাওে স্বচ্ছলতা আনতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় আসে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে কান্নাই এখন তাদের মাত্র সাথি হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া আসার পর গত ৫ মাস ধরে তাদের কারো কাজ নেই। নেই বেতন।
মালিক পক্ষের অমানবিক আচরন এবং অনাহারে তাদের শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। এক ধরনের বন্দী জীবন যাপন থেকে মুক্তি পেতে ৩৯ জনের মধ্যে ২৮ জন গত ১২ এপ্রিল রাতের আধারে পালিয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে আশ্রয় নেয়।