শ্রমিকদের উপহার দিতে গিয়ে নিজেই পেলেন বড় উপহার

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক: ‘শ্রমিকদের কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগাতে টিভি উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেই। শুধু ঘোষণা নয়, অ্যাডভান্স হিসেবে ওয়ালটনের ২টি এলইডি টিভিও কেনা হয়। কিন্তু কি মজার বিষয়, শ্রমিকদের জন্য উপহার হিসেবে টিভি কিনে নিজেই জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার পেয়েছি। আমার ভাগ্যে মিলেছে এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার।’

কথাগুলো মো. জামাল উদ্দিনের। রাজশাহীর বাগমারার রমরমার বাসিন্দা তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। মেয়েটির বিয়ে হওয়ায় বর্তমানে ২ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার তার। নিজের এলাকায় বড় আকারের ইটভাটা রয়েছে জামাল উদ্দিনের। যেখানে কয়েকশ শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের তিনি নিজের ছেলে-মেয়ের মতোই ভালবাসেন বলে জানান তিনি। তাদের জন্যই টিভি কিনে ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পেয়েছেন জামাল উদ্দিন।

মো. জামাল উদ্দিন জানান, ইটভাটার শ্রমিকদের কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি ও কাজের পরিধি বাড়াতে সফল শ্রমিকদের পুরস্কৃত করা হবে এমন ঘোষণা দেন তিনি। যেসব শ্রমিক তাদের টার্গেট (১৬ লাখ ইট তৈরি) পূরণ করতে পারবে তাদের টিভি উপহার দেওয়া হবে। কিন্তু শ্রমিকরা জানায়, এরকম ঘোষণা সব মালিকরাই করে থাকেন। কিন্তু পরে কেউই দেয় না।

মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘তাদের বিশ্বাস যোগাতে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ২টি টিভি কেনা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি ও ২য় পুরস্কার ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর বাগমারায় ওয়ালটনের শোরুম শিমুল এন্টারপ্রাইজে কয়েক জন যাই। সেখান থেকে টিভি দুটি কেনার পর ওয়ালটনের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পেইন এবং অফারের কথা জানতে পারি। পরে শোরুমের কর্মকর্তাদের পরামর্শে মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টিভি নিয়ে বাসায় চলে যাই।’

লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচারে কেনা ওয়ালটন পণ্য ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন জামাল উদ্দিন
তিনি বলেন, ‘বাসায় পৌঁছানোর পর আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। সেই মেসেজেই লেখা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির খবরটি। মেসেজটি যখন পাই তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। উপহারের মেসেজ পড়েই আনন্দ ধরে রাখতে পারিনি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোরুমে যাই। সেখানে গিয়ে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হই। তখন কেমন লেগেছিল তা আমি বলে বুঝাতে পারবো না। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শোরুমে গেছি এটা থেকে বুঝে নেন আমার কেমন লেগেছে। এক লাখ হোক বা এক টাকা হোক, পুরস্কার সব সময় পুরস্কারই। আমার আত্মীয়-স্বজন দারুণ খুশি। তবে বেশি খুশি আমার শ্রমিকরা। তাদের কারণেই উপহারের বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কি সৌভাগ্য। শ্রমিকদের উপহার দিতে টিভি কিনেই নিজেই বড় ধরনের উপহার পেয়েছি। ওয়ালটনের উপহার দেওয়ার বিষয়ে আগে জানা ছিল না। শুধুমাত্র শ্রমিকদের পুরস্কার দেওয়ার জন্যই টিভি কেনা। আগে থেকেই ওয়ালটনের ভক্ত হওয়ায় টিভি কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে কোনো সমস্যা হয়নি।’

লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার দিয়ে কি কি পণ্য কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরস্কারের এ টাকা দিয়ে এসি, ফ্রিজসহ মোট ৮টি আইটেমের পণ্য নিয়েছি।’

ওয়ালটন পণ্যের দাম, মান ও গুণাগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই ওয়ালটন পণ্য ব্যবহার করি। আমার বাসায় ৪২ ইঞ্চি ও ৩২ ইঞ্চি সাইজের ২টি টিভি আছে। দুইটি টিভিই ওয়ালটনের। শুধু টিভি নয়, ওয়ালটনের আরো অনেক পণ্যই আমার বাসায় আছে। সার্ভিস খুবই ভালো। ফলে ওয়ালটন যে ভালো কোম্পানি এ কথা বলতে বাধা নেই।। আমি ওয়ালটনের সফলতা কামনা করি।’

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।