শাহজালালের ওয়েবসাইট দু’মাস ধরে অচল, বাকি ৭ বিমানবন্দরের খবর নেই

(c) M.TORRES / WWW.TRAVEL-IMAGES.COM

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক:
দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে অচল হয়ে আছে দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট। দেশের অন্য দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের নেই কোনও ওয়েবসাইট। অভিযোগ আছে, মূলত কর্মকর্তাদের অনাগ্রহের কারণেই বিমানবন্দরগুলোতে বাস্তবায়ন হচ্ছে না জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনলাইন কার্যক্রম। তবে দেশের সব বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকা সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, শিগগিরই সব বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে তিনটি- ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে শাহ আমানত (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এরমধ্যে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (hsia.gov.bd) ওয়েবসাইট থাকলেও প্রায় দু’মাস ধরে সেটি অকার্যকর রয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোনও ওয়েবসাইট নেই।

অন্যদিকে, দেশে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে- রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর ও বরিশাল বিমানবন্দর। কিন্তু অভ্যন্তরীণ এসব বিমানবন্দরের কোনও ওয়েবসাইট নেই।

জানা গেছে, প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি ও জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ইতোমধ্যেই সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে ওয়েবসাইট তৈরি নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে সরকারি দফতরগুলোকে ওয়েবসাইট চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়া, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবা প্রদান, তথ্য সরবরাহ, ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় কনটেন্ট প্রকাশের নির্দেশনাও রয়েছে সরকারের। এজন্য প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় আইসিটি পলিসি ২০০৯। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের মাধ্যমে ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ৩৪৫টি অধিদফতর, ৭টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪৮৮টি উপজেলা, চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের জন্য ২৫ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের আকাশ পথে ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফ্লাইট শিডিউল, ব্যাগেজ হারানো, শিডিউল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করেন যাত্রীরা। হযরত শাহজালাল (রা.) বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট থাকলেও নভেম্বর মাস থেকে তা অকার্যকর রয়েছে। হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৬ হাজার ৪৭৩টি এবং ২৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৪৮ হাজার ৫০২টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে। সিভিল এভিয়েশনের তথ্য মতে, ৯ লাখ ১২ হাজার ৬৪৪ জন যাত্রী ২০১৫ সালে অভ্যন্তরীণ রুটে আকাশপথে ভ্রমণ করেন। ২০১৪ সালে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪২০ জন।

বরিশাল বিমানবন্দরের ম্যানেজার মো. হানিফ গাজী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট ওঠা-নামা করে এ বিমানবন্দরে। বরিশাল বিমানবন্দরের কোনও ওয়েবসাইট নেই স্বীকার করে মো. হানিফ গাজী বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটও করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারলাইন্স অপারেশন কমিটির (এওসি) প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আহমেদ আমিন বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ওয়েবসাইট থাকা উচিত। আমার জানা মতে, শাহজালালের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি যাত্রীরা বিমানবন্দর সম্পর্কে সহজে তথ্য জানতে পারবেন।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দিতেই ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও অধীনস্ত দফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মোবাইল অ্যাপলিকেশন্স ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সেবার তথ্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবার তথ্য প্রকাশের মধ্যদিয়ে সহজে জনগণ জানতে পারবেন। কোনও কোনও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রযুক্তিগত আগ্রহের অভাব রয়েছে। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক সভায় নাগরিকদের সেবায় উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি সংস্থাকে ন্যূনতম একটি উদ্ভাবনী কাজ বাস্তবায়ন করে সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বৈঠকে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় ডিজিটাল এয়ারপোর্ট সার্ভিস শীর্ষক ই-সার্ভিস বাস্তবায়নের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালককে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) সদস্য এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু ওয়েব সাইট নয়, মোবাইল অ্যাপলিকেশন্স তৈরি করে জনগণকে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে কেউ যেন অভিযোগ, পরামর্শ দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।’