অভিবাসন প্রত্যাশীদের ১৯ ভাগই প্রতারণার শিকার: রামরু

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক:
অভিবাসন প্রত্যাশী ১৯ ভাগই বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার মধ্যে বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩২ ভাগ। তারা দালাল, আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবদের টাকা দেয়ার পরেও বিদেশ যেতে পারেননি। এজন্য তাদের প্রত্যেক পরিবারকে দিতে হয়েছে গড়ে দুই লাখ টাকা করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ওমান, কাতার, আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সব থেকে বেশি। এ চারটি দেশে অভিবাসী প্রতারিত হয়েছে ৩৬ থেকে ৪০ ভাগ।
তবে সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে সে সংখ্যা কম। এ দুটি দেশে প্রতারণার শিকার ২৫ ভাগ অভিবাসী। সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলার একটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পাঁচ হাজার ৪০৭টি খানার জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ৫১ ভাগ সম্ভাব্য, বর্তমান ও ফেরত অভিবাসী বিভিন্ন পর্যায়ে যে কোনোভাবে প্রতারিত হয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০১৭ সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক প্রতিবদেনে এসব কথা তুলে ধরেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে রামরুর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যাওয়া অভিবাসীদের হিসাব সরকারের কাছে থাকলেও ফেরত অভিবাসীদের কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। বর্তমানে ৪৪ ভাগ বিদেশ ফেরত অভিবাসী রয়েছে। অথচ সরকার সব সময় বলে থাকে বিদেশ থেকে এক কোটি লোক আমাদের রেমিটেন্স পাঠায়। সরকারকে এটা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ কোনো সময়ই এত সংখ্যক অভিবাসী থাকে না। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে নারী অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। গতবছর নারী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন। গতবছর থেকে এবছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি নারী কর্মী অভিবাসন করেছে। ২০১৭ সালে নারী-পুরুষ মিলে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ১০ লাখের উপরে। যা ২০১৬ সালে ছিল সাড়ে সাত লাখের একটু বেশি। রামরুর প্রতিবেদনে বিদেশ থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স প্রেরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ১২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স প্রেরণ করেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৭ সালে রেমিটেন্স এর পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর তুলনামূলকভাবে রেমিটেন্সে আশানুরূপ কোনো সুসংবাদ নেই। গত বছরের তুলনায় রেমিটেন্সের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৮ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। ২০১৬ সালে মোট প্রাপ্ত রেমিটেন্স ছিল ১৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সব থেকে বেশি রেমিটেন্স আহরণ করতো। হঠাৎ করে তাদের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে সম্ভাবনাময় আহরণকারী ব্যাংক থেকে তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। বলা হয়ে থাকে ক্যুয়ের মাধ্যমে ব্যাংকটি দখল করে অদক্ষ লোকজন দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকেও সরকারের লক্ষ রাখতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা, পরিচালক রাবেয়া নাসরিন ও ড. মো. জালাল উদ্দিন সিকদার। মানবজমিন