তের হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে চীন

প্রবাসীকণ্ঠ ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং পর্নোগ্রাফি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে চীন। ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান সময়ে এ কাজ করেছে সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, স্থানীয় আইন ও নির্দেশনা না মানায় এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। দেশটির সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনের নির্দেশনায় তারা এ কাজ করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে ইন্টারনেট নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়িয়েছে চীন।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারিতে চীন বরাবরই কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দায়িত্ব নেয়ার পর যা আরো কঠোর করা হয়। বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ডটকম চীনে নিষিদ্ধ অনেক আগে থেকেই। এছাড়া দেশের মধ্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ করতে এবং দলাদলির জন্য ইন্টারনেটকে প্রতিপক্ষ মনে করে চীন সরকার। দেশটির এ ধরণের উদ্যোগকে কেউ কেউ বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

অবশ্য চীনের দাবি, বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশেরই ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং পর্নোগ্রাফি ও বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন অনলাইন কনটেন্ট ঠেকানোর জন্যই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সিনহুয়ার তথ্যমতে, গত তিন বছরে ১৩ হাজার ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের প্রায় এক কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীন সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে দেশটির ৯০ শতাংশ
মানুষের সমর্থন রয়েছে। ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করে, সাম্প্রতিক সময় দেশটির সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

চীন চলতি বছর জুলাইয়ে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের সহায়তায় নিষিদ্ধ ইন্টারনেট সেবাগুলো ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। গ্রেট ফায়ারওয়াল নামে পরিচিত দেশটির ইন্টারনেট সেন্সরশিপ সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সাইটগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেত কয়েক মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশে ভিপিএনের এ ধরনের ব্যবহারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে