ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স সময় মেনে চলছে না

us bangla problem

বিশেষ প্রতিবেদক
বেসরকারী বিমান পরিবহন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ইদানীং সময় মেনে চলতে পারছে না। এতে ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী বিভিন্ন পেশার যাত্রীরা অনেকটাই বিরক্ত। শুধু সময় মেনে চলছে না তা কিন্তু নয়, উড়োজাহাজ উড্ডয়ন থেকে শুরু করে অবতরন করা পর্যন্ত ইজ্ঞিনের বিকট শব্দে যাত্রীরা এখন অতিষ্ঠ। যদিও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিভিন্ন সময় অনটাইম ফাইট সার্ভিসের পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান এয়ারলাইন্সটিকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে প্রচার করা হয।

গত শনিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্য ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের (ফাইট নম্বর-) ফাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা থাকলেও সেটি নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা বিলম্বে গন্তব্যর উদ্দেশ্য উড়ে যায়। ওই ফাইটের যাত্রীদের মধ্যে একাধিক ব্যবসায়ী একইভাবে গত বুধবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি প্রায় ২৬ মিনিট বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে। শুধু যে একটি ফাইটের শিডিউল বিলম্ব হচ্ছে তা কিন্তু নয়, প্রায় সময়ই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না বলে এপথে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ। আর ইন ফাইটে সেবার নাম বলতে যা বোঝায় তার ছিটেফোটাও যাত্রীদের দেয়া হচ্ছে না। তবে দক্ষ পাইলটদের বিমান পরিচালনার কারণে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরনে যাত্রীরা অনেকটাই সন্তুষ্ট।

কুয়ালালামপুর শিপাং আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের অদুরে ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন চাদপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন। তিনি সেখানে বর্তমানে হোটেল ব্যবসা করছেন। হঠা? করে তার জন্মদাত্রী মা অসুস্থ হওয়ায় তিনি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বুধবারের ৩টা ৫০ মিনিটের ফাইটে ঢাকায় আসেন। তিনি জানান, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সেবার ব্যাপারে যেভাবে ঢাকঢোল পিটানো হয় বাস্তবে তার ছিটেফোটাও নেই। সময় মেনে বিমান ছাড়ে না। সেবার মান নিয়েও রয়েছে কমবেশী প্রশ্ন ?

তিনি বলেন, এই এয়ারলাইন্সের বিমানে যেটি সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেটি হচ্ছে বিমান ছাড়ার পর ভেতরে যে বিকট শব্দ হয় তাতে প্রতি মুহুর্ত শুধু কান বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। তারপর অন্যান্য বিমানের সিটের সামনে স্ক্রীনে বিমানটি কোন এলাকায় আছে সেটি দেখা যায়, কিন্তু এই বিমানে সেটি দেখানো হয় না। তাছাড়া কেবিন ক্রু কোন ঘোষনা দিলে বিকট শব্দের কারণে সেটি মোটেও শোনা যায় না। গানশোনার জন্য হেড ফোন দেয়া হয় না। তার মতে, সেবা বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই। এরআগে শনিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের ফাইটটি ১ ঘন্টা বিলম্বে ছেড়ে যায় কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্য। ওই ফাইটের যাত্রী মালয়েশিয়া প্রবাসী সজিব জানান, এই বিমানটির সিটের সামনে জায়গা কম। লম্বা মানুষ হলে তাদের সমস্যা বেশী। বিনোদন নেই। টাইম মতো ছাড়ে না। তারপরও দেশীয় বিমান হিসাবে যাই। কি আর করার ? তবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যে খাবার পরিবেশন করছে সেটি ভালো।

এসব ব্যাপারে ইউএস বাঙলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাোয়া যায়।