দাফনের ২১ দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উত্তোলন

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় ২১ দিন পর কবর থেকে স্কুলছাত্রের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের মো. রজিম হাওলাদারের ছেলে মেহেদী হাসানের (১৭) মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

ইন্দুরকানী থানা পুলিশের ওসি মো. নাসির উদ্দিন দাফনের ২১ দিন পর কবর থেকে মেহেদী হাচানের মরদেহ উত্তোলনের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুলনার রূপসা এলাকায় বসবাস করে আসছে। গত কোরবানির ঈদের পরদিন বন্ধু আকাশ তাকে দাওয়াত খেতে নিয়ে যায়। এরপর রাতে তার পরিবারকে জানানো হয় মেহেদী হাসান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মেহেদীকে।

এরপর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যায় মেহেদী। পরে ইন্দুরকানীর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুর কিছুদিন পর তার পরিবার বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা নয়, মেহেদী হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গত ২১ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে আসামি করে মেহেদী হাসানের মা পাপড়ি বেগম বাদী হয়ে খুলনার রুপসা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপেক্ষিতে খুলনা সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

পিরোজপুরের ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাস ও ইন্দুরকানী থানা পুলিশের ওসি মো. নাসির উদ্দিন শেখসহ শত শত লোকের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ইন্দুরকানী উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের বাড়ি থেকে মেহেদী হাসানের মরদেহ উত্তোলন করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পাঠানো হয়।

মেহেদী হাসানের মা পাপড়ি বেগম সাংবাদিকদের জানান, স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনে তার ছেলে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ আকাশ তার দলবল নিয়ে আমার ছেলে রূপসা বহুমুখী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর প্রচার করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জাগোনিউজ২৪.কম