প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ দুর্গোৎসব

৯৯৯৯

প্রবাসীকণ্ঠ নিউজ:
প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা। শারদ বাতাসে বিদায়ের জল। প্রকৃতিও যেন ঝরেছে ভক্তদের হয়ে। উৎসব, আনন্দের বর্ণিল দেবিপক্ষ শেষে ভক্তকুলকে বিষাদে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন মহামায়া জগজ্জননী দেবী দুর্গা। মর্ত্যলোক থেকে চার সন্তানকে সাথে নিয়ে তিনি ফিরে গেলেন পতিগৃহ কৈলাসে। আর এরই সাথে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হল সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়াতে নৌকায় চড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী। মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা ও পূজা আর্চনার পর আজ পালিত হল বিজয়া দশমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচদিনের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের পর ভক্তরা আজ বিজয়া দশমীর দিনে ছিলেন অশ্রুসিক্ত।

মহালয়ার দিন শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষ। আর ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয় পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিবারের মতো মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছেন। এদিন সকাল ৯.৫৮ মিনিটে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে করা হয় দশমীবিহিত পূজা।

এরপর মণ্ডপগুলোতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। ভক্তরা জানান, হৃদয়ে বেদনা থাকলেও রঙিন মুখে দেবীকে বিদায় জানাতে এই সিঁদুর খেলা। দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পুজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর মণ্ডপগুলো থেকে বেলা ২.৩০ থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য মণ্ডপগুলো থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় ঢাকার সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে।

এসময় ঢাক, ঢোল, কাঁসর আর ভক্তদের উলুদ্ধনিতে মুখরিত হয় ঢাকার সড়কগুলো। প্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসার পর ধূপ ধুনো দিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন ভক্তরা। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবীকে বিসর্জনের জন্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে এসেছিলেন নৌকায় চড়ে আর বিদায় নিলেন ঘোড়ায় চড়ে।

এবার দেশে সবচেয়ে বড় পূজার আয়োজন ছিলো বাগেরহাটের শিকদার বাড়িতে। ঢাকা শহরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারী বাজার, বাংলাবাজার জমিদার বাড়ি পূজামণ্ডপসহ, বনানী , বসুন্ধরা, কলাবাগানসহ নানা এলাকায় এলাকায় ছিলো পূজার আয়োজন।

সারাদেশে এবার ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৩৯৫ টি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মাণ, পূজা মণ্ডপে নারী ও পুরুষের আসা এবং বের হেওয়ার আলাদা পথ, পরিচয় কার্ডধারী নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করার করা হয়েছিল। সুত্র : banglatribune