‘টাকা না দিলে ভেতরেই ঢোকা যায় না’

comilla- districk kormo

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে চাঁদপুর হাজীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ শরীফ এসেছিলেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। দালালদের খপ্পরে পড়ে তিন দিনেও কাজটি করতে পারেননি। অথচ কাজটি একদিনেই হওয়ার কথা। শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে তো টাকা না দিলে ভেতরেই ঢোকা যায় না।’

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের যোগসাজোশেই এভাবে দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিদেশে গমনেচ্ছুরা। প্রতিবাদ করলে মারধরসহ লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে।

দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দায়ী করেছেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ব্যাংক ড্রাফট দেওয়া থেকে শুরু করে ফর্ম জমা দেওয়া পর্যন্ত দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে লোকজন। বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভিড়কে পুঁজি করে কর্মসংস্থান অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজোশে সক্রিয় দালালরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাইরের ফর্ম গ্রহণযোগ্য না হওয়ার পরও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের প্রবেশ গেইটে জোরপূর্বক ফরম পূরণের জন্য আদায় করা হচ্ছে টাকা। হারাতে হচ্ছে হাতের মোবাইল এবং সঙ্গে থাকা কাগজপত্র।

দালাল চক্রের সদস্য

বিদেশে যেতে ইচ্ছুকরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন লোকজন এখানে আসে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রায়হান নামে এক যুবকসহ ২০-২৫ জন জনশক্তি কার্যালয়ে এসে রেজিস্ট্রেশনের লম্বা লাইনে থাকা লোকজনের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের মনোনীত কিছু লোককে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে সংশ্লিষ্টরা রাজি না হলে শাসক দলের পরিচয় দিয়ে ওই যুবকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাধা দিলে এক কর্মকর্তাকে মারধরের হুমকি দেয়।

কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই কবির আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন কিছু স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এবং দালাল চক্র বিদেশ গমনেচ্ছুকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। রায়হানসহ ২০-২৫ জন তরুণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করে। আমরা তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম বলে হুমকি দেয়।

comilla-ghus

এ বিষয়ে কুমিল্লার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা লোকজন দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারণার শিকার লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলে তারা হুমকি দেয়। রায়হান নামের ওই যুবক আমাদের এক কর্মকর্তাকে মারধরেরও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি থানায় অভিযোগ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও ওই উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও দালালদের দৌরাত্ম্য থামছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাইরের কোনও ফর্ম গ্রহণ করি না। তারপরও অফিস গেইটে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে লোকজন। আমার অফিস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয়।’

বাঙলাট্রিবিউন.কম