সম্পাদকদের ছাঁটাই পরিকল্পনায় ফুঁসে উঠেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর কর্মীরা

new yourk times

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

কর্মী ছাঁটাই-এর কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার সরব হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর কর্মীরা। ছাঁটাই পরিকল্পনার পাশাপাশি মালিকানার অংশবিশেষ বিক্রি করে দেওয়ারও বিরোধিতা করেছেন প্রায় ৪০০ কর্মীর ইউনিয়ন। প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এসব কথা জানিয়েছে।

আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কর্মীদের ‘বাইআউট’-এর সুযোগ দিতে চাইছে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস। ‘বাইআউট’ হলো কোনও কোম্পানির নিজস্ব কর্মীদের শেয়ার ক্রয়ের সুযোগ। এর মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানার একাংশ অর্জন এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। রয়টার্সের হাতে পাওয়া নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক নথিতে বলা হয়েছে, মূলত সম্পাদকদের ছাঁটাইয়ের কৌশল হিসেবে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রভাবশালী এ মার্কিন দৈনিক।

এই সিদ্ধান্তের বিপরীতেই ফুঁসে ওঠেন কর্মীরা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বৃহত্তম কর্মী ইউনিয়ন নিউজ গিল্ডের সভাপতি গ্র্যান্ট গ্লিকসন বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই বাইআউটের ঘোষণা এবং পাবলিক এডিটরসহ সম্পাদকদের ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব আমাদের সদস্যদের জন্য একটা বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত। এটা সংবাদিকতার জন্য কবর খোঁড়ার মতো খবর।

গ্র্যান্ট গ্লিকসন বলেন, সাংবাদমাধ্যম শিল্পে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নেতৃস্থানীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শোনা যাচ্ছে, তারা আরও রিপোর্টার নিয়োগ ও কনটেন্ট-এ বিনিয়োগে আগ্রহী। এতে করে একটা দুর্ভাগ্যজনক খরচের খাত সামনে উঠে এসেছে।

এক স্ক্যান্ডালের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে ২০০৩ সালে পাবলিক এডিটরের পদ তৈরি করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে এই কপি এডিটরদের বলা হয় নেপথ্যের মানুষ। তারা প্রতিবেদকের তৈরি করা সংবাদকে আরও সমৃদ্ধ করতে কাজ করেন।

গত গ্রীষ্ম থেকে নিউ ইয়র্ক টাইমসে পাবলিক এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন লিজ স্পাইড। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার হবে তার শেষ কর্মদিবস।

আধা পৃষ্ঠার দুটি ভিন্ন চিঠিতে কর্মীদের এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডিন বাকোয়েট এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জো কান। তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠান থেকে কপি এডিটর-এর পদ বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের জায়গায় কয়েকজন সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন নিয়মে সম্পাদকদের একটি দল একটি প্রতিবেদনের সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখবে। চূড়ান্তভাবে প্রকাশের আগে অন্য একটি দল পুনরায় সেই প্রতিবেদন দেখে দেবে। এর মাধ্যমে সম্পাদনা বিভাগে পার্থক্য বা বিভাজনের ইতি ঘটবে।