অগ্রনী ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের কোটি কোটি টাকা লুটপাট

agrani bank logo

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবিদ হাসানের একছত্র আধিপাত্যে লুটপাট হচ্ছে বিজ্ঞাপানের কোটি কোটি টাকা। কমিশনের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন ছাপানো হচ্ছে নাম সর্বস্ব আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায়।মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ২০১৬ সালে বিজ্ঞাপন প্রচারে বরাদ্দ দিয়েছিল ১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় তিন কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায়।

ব্যাংকের কার্যক্রম, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও কর্মকান্ড প্রচার করতে বহুল পঠিত-প্রচারিত গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে তথ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনার পরও ব্যাংকটির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে নাম সর্বস্ব পত্রিকাগুলোতে। তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র নীতিমালা (২০০৮) ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবরে প্রকাশিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত অর্ধ সাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, বা সাময়িকীতে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য নতুন নিদের্শনা প্রদান করা হলো।

২০১৬ সালে যে সব সাপ্তাহিক মাসিক ও সাময়িকীতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে সেগুলো হলো- স্টার ভিশন নিউজ, বাস্তব সত্যবাদি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা নিউজ, জেএনএস নিউজ, ওয়ার্ল্ড ফটো নিউজ এজেন্সী, অনুবীক্ষণ, অপরাধ চিত্র, ব্যাংক বীমা নিউজ, ঢাকা গেজেট, সাপ্তাহিক তৃতীয় মাত্রা, রয়েল নিউজ এজেন্সী, ব্যাংক বীমা শিল্প উন্নয়ন নিউজ, মানব সম্পদ ও ব্যাংকার সংবাদ, সাপ্তাহিক মিডিয়া এক্সপ্রেস, এশিয়া ডাইজেস্ট, জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধে নিউজ, লিড নিউজ, পাক্ষিক মানি টাইম, এলিট নিউজ, নারী ও প্রতিবন্ধি উন্নয়ন নিউজ, কিং হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন, আল মিনার, সাপ্তাহিক নারীর কথা, গ্লামার মিডিয়া, বাংলাদেশ বিনোদন সংবাদ, রাজধানীর খবর, তারা নিউজ, জরুরী সংবাদ, উত্তরবঙ্গের খবর, দেশের কণ্ঠ, জাতীয় সাংস্কৃতিক নিউজ, এন্ট্রি ড্রাগ নিউজ, গণধনি, মাদক প্রতিরোধ নিউজ, অর্থ বাণিজ্য বার্তা, অপরাধ বিচিত্রা, গণ মানুষের কথা, অপরাধ অনুসন্ধান, শব্দ মিছিল, দায়িত্ব, প্রতারণার সংবাদ, বাণিজ্য জগত, চলামান বাংলা, আজকের দিশারী।

অগ্রণী ব্যাংক ছাড়াও একই পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে সোনালী, রূপালী, জনতাসহ সব সরকার মালিকাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো থেকে। যাদের প্রত্যেকের বার্ষিক বিজ্ঞাপন বরাদ্দ থেকে কম করে হলেও প্রায় দুইকোটি টাকা চলে যাচ্ছে এসব আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায়।আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্রচার সংখ্যা থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামস উল ইসলাম বলেন, অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় সব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে। তবে আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে।

আর এসব পত্রিকার সবগুলোতেই বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন স্বাক্ষরজ্ঞানহীন নারীরা। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য আবিদ হাসানকে দিতে হচ্ছে নিদিষ্ট হারে কমিশন। আবার অনেকেই নিজেদের নানা কৌশল অবলম্বন করে জনসংযোগ বিভঅগের কর্মকর্তাদের চাপে ফেলে অথবা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন নিয়ে যাচ্ছে। দিনের পর ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগে বসে থেকে অভাবের দোহাই দিয়ে বিজ্ঞাপন নিয়ে যাচ্ছে।

নির্দেশনা মোতাবেক সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখিত পত্রিকার প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে। প্রচার সংখ্যার পরিমান হতে হবে ৩হাজার থেকে ১০হাজারের মধ্যে। আর দৈনিক পত্রিকার ক্ষেত্রে সর্বনিন্ম প্রচার সংখ্যা হতে হবে ৬হাজার। এর চেয়ে কম হলে কোনো পত্রিকাতেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।

কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের ফায়দা লুটতে এসব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে তথ্য মন্ত্রনালয়ের কোনো নির্দেশ মানছে না। নিজেদের ইচ্ছেমত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।

তথ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন প্রচারের একটি নিদিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে তথ্য মন্ত্রনালয়ের গেজেটে। ব্যতয় ঘটলে গেজেট মোতাবেক কেন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে না জানতে চাওয়া হবে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে।

ঢাকাপ্রেস২৪.কম