অ্যাপোলোর লিফটে তিন ঘণ্টা ২০ মিনিট আটকা মর্তুজা বশির

Murtoja-Boshir20170508220454

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

লিফটে আটকা তিন ঘণ্টা ২০ মিনিট। হুইল চেয়ারে শ্বাসকষ্টের রোগী। লিফটের এসি বন্ধ। বাতাসের ব্যবস্থাও নেই। অ্যাপোলো হাসপাতালের লিফট। হ্যাঁ, দেশের অন্যতম আধুনিক হাসপাতালের লিফটেই তিন ঘণ্টা ২০ মিনিট আটকা পড়েন চিত্রশিল্পী মর্তুজা বশির।

ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে। রাত ১০টা ১০ মিনিটে লিফটে আটকা পড়েন মর্তুজা বশির ও তার ছেলে মেহরাজ বশির। সঙ্গে আরও পাঁচজন। উদ্ধার হন রাত ১টা ৩০ মিনিটে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই সময়টুকু লিফটেই কাটাতে হয়েছে তাদের। আলো-বাতাস ছাড়া ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় এ সময়টুকু কাটলেও উদ্ধারে ত্বরিত কোনো চেষ্টা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন মর্তুজা বশিরের বড় মেয়ে মুনিরাহ বশির।

বাবা মর্তুজা বশিরের লিফটে আটকে পড়ার ঘটনা এবং অ্যাপোলো হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বর্ণনা দিয়ে রাতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মুনিরাহ বশির। মুনিরাহ বশিরের দেয়া স্ট্যাটাসটি নিম্নরুপ।

‘আমার বাবা মর্তুজা বশির আর আমার ভাই মেহরাজ বশিরসহ আরও চার-পাঁচজন অ্যাপোলো হসপিটালের ফুড ভিলেজ এর লিফটে রাত ১০টা বেজে ১০ মিনিট থেকে রাত ১টা বেজে ৩০ মিনিট পর্যন্ত আটকে ছিল। আমরা যখন খবর পেলাম তখন ন্যূনতম কাউকে খুঁজে পাইনি যাকে বলা যায়। আমার বোন মুনিজা বশির সিকিউরিটি গার্ডকে বলার পরও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। রিসিপশনে বলার পর তারাও খুব নির্লিপ্ত ছিল।

ডিউটি ম্যানেজারকে কল করার পর পাওয়া গেল। ডিউটি ম্যানেজারের একই কথা, ‘চেষ্টা চলতেছে, ধৈর্য ধরেন’। কী করে ধৈর্য্ ধরব! আমার চোখের সামনে আম্মা কলাপস করছিল, আরেকদিকে বাবা আর ভাই লিফটে আটকে আছে! আমার বোন আর আমি পাগলের মতো ইমারজেন্সিতে আম্মার কাছে আর ফুড কোর্টের লিফটের কাছে কতবার যে ছোটাছুটি করেছি, তা আল্লাহ মালিক জানেন। অ্যাপোলো ম্যানেজমেন্ট তাদের উদ্ধার করার জন্য কোনো পজেটিভ স্টেপ দ্রুততার সঙ্গে নিতেই পারেনি। এখানে ভালো টেকনিশিয়ান নেই। লিফটে আটকা পড়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের লোকজন লিফট ঠিক করার জন্য আসে। ইন দ্য মিন টাইম আমার ভাইয়ের স্ত্রী ‘রিজওয়ানা রহিম’ফায়ার বিগ্রেডে কল করে তাদের উদ্ধার করার জন্য। বাবা অক্সিজেন ক্যারি করেন, তিনি শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন। লিফটে কোনো এসি ছিল না, বাতাস চলাচলের কোনো উপায় ছিল না। লিফটের বাইরে ইমারজেন্সি কল করার জন্য যে ফোন নম্বর ছিল সেখানে ফোন করলে কেউ ধরছিল না।
তাছাড়া লিফটের অ্যালার্ম বেল বারবার বাজিয়েও কোনো লাভ হচ্ছিল না। অবশেষে লিফট কোনোমতে উপরে ফুড ভিলেজের প্রবেশপথের মাঝামাঝি নেয়া হয় এবং বাবাকে হুইল-চেয়ারসহ টেনে বের করা হয়। কপাল ভালো ছিল, আমার ভাই বাবাকে হুইল চেয়ারে করে ফুড ভিলেজে নিয়ে গিয়েছিল। তা না হলে বাবাকে দেড় ঘণ্টা দম বন্ধ করা লিফটে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো! এই ঘটনার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছা। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

সুত্র জাগোনিউজ২৪.কম