শরণখোলায় হবে আন্তর্জাতিক মানের ইকোট্যুরিজম সাইট

Sharonkhola

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলায় নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ইকোট্যুরিজম সাইট। মালয়েশিয়ার মেট্রো কাঝং হোল্ডিং (এমকেএইচ) বারহাদ কোম্পানির দেওয়া প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে স্থান পরিদর্শন করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তারা অনুমোদনও দিয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে তবেই পুরো উদ্যোমে চলবে কাজ। ইকোট্যুরিজম সাইটকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে অনেক পরিকল্পনা। সেখানে অংশ নেওয়া যাবে অনেকগুলো ইভেন্টে। ক্যাবেল কারে রাউন্ড ভ্রমণ, ক্রুজশিপে দুই ঘন্টার মধ্যে সুন্দরবন ঘুরে আসা, থিম পার্ক, ওয়ান্ডার ল্যান্ড পার্ক, বিদেশী পর্যটকদের জন্য থাকবে আলাদা ক্রুজ। মালয়েশিয়ান ট্যুরিজমকে মডেল ধরে সম্পূর্ণ কাজকে এগিয়ে নেওয়া হবে, ভয়েস বাংলা অফিসে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন এমকেএইচ কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর জামিল হোসাইন।
জামিল হোসাইন বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি কোম্পানিদের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মালয়েশিয়ার মেট্রো কাঝং হোল্ডিং (এমকেএইচ) বারহাদ কোম্পানি শরনখোলা এলাকায় ২০০ একর ল্যান্ড চেয়েছে। তারা প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই শুরু হবে ইকোট্যুরিজম সাইটের কাজ।
এমকেএইচ গ্রুপ ও পর্যটন কর্পোরেশন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ১ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করবে ইকোট্যুরিজম খাতে। বাংলাদেশ শুধুমাত্র জমিদান করবে বাকিসব খরচ বহন করবে এমকেএইচগ্রুপ। জামিল হোসাইন বলেন, পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই সমুদ্র সৈকত আছে তবে সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশেই আছে। আর একে পরিবেশ বান্ধব দর্শনীয় পর্যটন স্থানে রূপ দিতে পারলে তা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষন করবে সবচেয়ে বেশি। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি মিললে অল্প সময়ের মধ্যেই জমির অধিগ্রহণসহ শুরু হবে, চলবে সামগ্রিক কাজ।
পদ্মাব্রিজ হয়ে গেলে ২ঘন্টার মধ্যে যাওয়া যাবে শরনখোলায়। তাদের পরিকল্পনায়, বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় পাঁচতারা হোটেল, ছোট-বড় কটেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক আরো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ট্যুরিস্ট সাইট ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকবে।

jamil hossain

এমকেএইচ কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, এখানে ট্যুরিজম স্পটকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যেন ফ্যামিলি নিয়ে ৩দিনের জন্য এখানে দেশি ও বিদেশিরা ঘুরতে আসে। এ জন্য বাগেরহাট খানজাহান আলীতে একটা এয়ারপোর্টেরও পরিকল্পনা আছে সরকারের, জানান তিনি।
জামিল হোসাইন বলেন, মাহাথীর মোহাম্মদ সেদেশে বিদেশী সংস্থাগুলোকে বিনিয়োগে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, সে কোম্পানিগুলোকে বলেছিলো মালয়েশিয়া তাদের সিকিউরিটি দিবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, ৯৯ বছরের জন্য জমি দেওয়া হবে। আর শর্ত হিসেবে বলা হয়েছিলো কাজের জন্য মালয়েশিয়ার কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে। তার এই শর্ত মেনে নিয়ে বিদেশি কোম্পানি মালয়েশিয়াতে শিল্প, কৃষি, ট্যুরিজমকে ডেভলপ করেছিলো। যখন তারা দেখল তাদের স্থানীয় সকল মানুষ কাজ পেয়ে গেছে। তখন থেকে তারা বিদেশী লোক নেওয়া শুরু করল। এখন মালয়েশিয়াতে মাল্টি ট্যুরিজম ডেভলপ করেছে। তাদের গ্রাম্য ফুড, ট্রাডিশনাল ফুড বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় পণ্য হয়ে ওঠেছে। সেখানে কালচারাল ও রিলিজন ট্যুরিজম ডেভলপ করেছে।
কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, আমাদের দেশে অনুরূপ সিকিউরিটি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে আমরাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এদেশে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পারব। তিনি বলেন, গতবছরে এ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও হলি আর্টিজানের ঘটনায় এটি পিছিয়ে যায়। এরপর, সিলেটের জঙ্গী হামলাসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গীহামলার ঘটনায় কাজটি আরো পেছাল। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জঙ্গী হামলা নির্মূল করা গেলে একাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ভয়েজ বাঙলা .বিডি .কম