আরব আমিরাতের কারাগারে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বন্দী

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

প্রতিবছর প্রচুর বাংলাদেশি অভিবাসন আইন না মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে। নতুন দেশে গিয়ে তাদের বেশিরভাগকেই পড়তে হচ্ছে নানা জটিলতায়। কেউ আবার আইনি জটিলতায় মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটক থাকছে কারাগারে।

অভিবাসন শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআরসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বের ৩৮টি দেশের কারাগারে বর্তমানে ২৩ হাজার ৩৬৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বন্দি অবস্থায় রয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

চলতি মাসে ইউএনএইচআরসির শুনানিতে বাংলাদেশ জানায়, ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ২৩ হাজার ৩৬৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বন্দি অবস্থায় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত ও জর্ডানে সবচেয়ে বেশি।

এ দেশগুলোর মধ্যেও আবার সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৩৮ জন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে। এরপরেই রয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটিতে বন্দি রয়েছে ২ হাজার ১৩১ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেয়া হিসাব অনুযায়ী, উল্লেখিত দেশগুলোর বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় বন্দি রয়েছে ৬৪ জন বাংলাদেশি ও জাম্বিয়ায় বন্দি ১৯ বাংলাদেশি।

জনশক্তি রপ্তানি বিশ্লেষক ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন এ বিষয়ে বলেন, আমাদের দেশ থেকে বেশিরভাগ শ্রমিক অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। ফলে তারা সেদেশে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে অনেক বাংলাদেশিকে পুলিশ আটক করে কারাগারের পাঠাচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু সেদেশের অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন বলে নয়, অনেক বাংলাদেশি প্রবাসে গিয়ে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকার কারণেও বন্দি হচ্ছে। দালালের মাধ্যমে, বিশেষ করে ইউরোপের কোন দেশে যেতে গিয়ে, অনেক বাংলাদেশিকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে তৃতীয় কোন দেশে অবৈধভাবে কিছুদিন থাকতে হচ্ছে। যে কারণে গন্তব্য বা কাঙ্খিত দেশে যাওয়ার আগেই তারা আটক হচ্ছে বলেও জানান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন।

তিনি আরও বলেন, এভাবে যারা আটক হচ্ছে তাদের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও এদের সঠিক তথ্য দিতে পারছে না বলেও জানান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন পান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আটক বাংলাদেশিদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে আইনি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার কর্মকর্তারা আটক ওই বাংলাদেশির সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাতের অনুমোদন পান । পরে তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র থাকলে তা পরীক্ষা করা হয়। না থাকলে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে তা দেশে পাঠিয়ে যাচাই করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের প্রমাণ হাতে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হয়। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে দেনদরবার ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে ঐ দেশেই অনেকের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
সুত্র ভয়েজ বাঙলা বিডি .কম