সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছেন দুই শতাধিক নারী শ্রমিক

femail

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছেন দুই শতাধিক নারী শ্রমিক। বেশির ভাগই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে পালিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে অনেকে থাকা খাওয়ার সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রায় এক মাস ধরে দূতাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকলেও তাদের কাউকেও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দূতাবাসের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ভিকটিম সুমী আখতার (ছদ্মনাম) তার স্বজনদের টেলিফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলছেন, যদি দূতাবাস তাকে দেশে পাঠাতে না চায় তাহলে তাকে যেন ঢাকা থেকে রিটার্ন টিকিট পাঠিয়ে ফেরত আনা হয়।
এ ঘটনার পর সুমীর স্বজনরা সৌদি আরবে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি ‘দ্য বেস্ট সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা (মার্কেটিং) পরিচয়দানকারী লেহাজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি দেখাও দিচ্ছেন না, ফোনও ধরছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেসার্স দ্য বেস্ট সার্ভিস নামে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দুই মাস আগে সুমী আখতার সৌদি আরব পাড়ি জমান। প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা পাবেন, এমন প্রলোভনে তাকে পাঠানো হলেও কয়েক দিন না যেতেই সুমী টেলিফোনে তার স্বামী সাহিনকে জানান তার কষ্টের কথা। এর মধ্যে তাকে কাজ না পারার জন্য মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। দিনে দিনে শারীরিক নির্যাতন বাড়তে থাকায় সুমী সেখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শেল্টার হোমে।
মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা সুমীর নিকটাত্মীয় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে নাম না প্রকাশ করে বলেন, সুমীর স্বামীর নাম সাহিন। আমার বাসার পাশেই তারা থাকেন। দালালের প্ররোচনায় স্বামী তার স্ত্রীকে সৌদি আরবে পাঠাতে রাজি হয়। তার যেতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসেই সুমী আয় করতে পারবে ৩৫ হাজার টাকার মতো। কিন্তু যাওয়ার পর সুমী দেখতে পায় ভিন্ন পরিস্থিতি। যে কাজের কথা বলে তাকে নেয়া হয়েছে সেই কাজ তাকে দেয়নি। উপরন্তু তার ওপর চলছে নির্যাতন। এসব সহ্য করতে না পেরে তিন সপ্তাহ আগে সুমী ওই গৃহকর্ত্রীর বাসা থেকে পালিয়ে রিয়াদের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছে। সুমী সেখান থেকে মাঝে মধ্যে ফোন করে বলছে, আমি এখানে খুব কষ্টের মধ্যে আছি। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে বিমানের রিটার্ন টিকিট কেটে আমাকে দেশে নেয়ার ব্যবস্থা করো। সুমী এ সময় জানিয়েছেন তার মতো আরো দুই শতাধিক মহিলা কর্মী পালিয়ে এখন দূতাবাসের শেল্টার হোমে আশ্রয় নিয়েছেন। সবাই দেশে ফিরতে চাচ্ছে। অনেকেই কান্নাকাটি করছে। কারণ দূতাবাসের শেল্টার হোমে থাকা এবং খাওয়ার কষ্ট হচ্ছে তাদের।
গতকাল রোববার রাতে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহর সাথে একাধিকবার টেলিফোন করে দুই শতাধিক নারীশ্রমিকের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সুমীর স্বজন ইফতেখার জানান, তিনি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহর পিএ সোহেলের সাথে কথা বলেছেন। তিনি তাকে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছেন। এক্সিট ভিসা পাওয়া গেলেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো নারী শ্রমিক সৌদি আরব গেলে তাকে কমপক্ষে দুই বছর থাকতে হবে। তার আগে ফিরতে পারবেন না ফিরতে হলে মুচলেকা দিতে হয়। সুমী মুচলেকা দিয়েই সৌদি আরব গেছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বেশির ভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি সঠিক ট্রেনিং না দিয়েই বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছে। যার কারণে নারীশ্রমিকেরা যাওয়ার পর ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। তখনই তাদের ওপর মারধরের ঘটনা ঘটছে।
তারা বলেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ট্রেনিং বিভাগ মূলত দায়ী। কারণ নারীশ্রমিকদের এক মাসের ট্রেনিং দেয়ার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ ট্রেনিং সেন্টারে নারীশ্রমিকেরা ট্রেনিংয়ের জন্য ভর্তি হলেও তারা ট্রেনিং না করে বাসায় চলে যান। শেষ দিনে গিয়ে সার্টিফিকেট নেন। এরপর বিদেশ পাড়ি জমান। তাদের মতে, এগুলো মনিটরিং করা জরুরি। তা না হলে বিদেশে শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি ুণœ হতেই থাকবে।

নয়া দিগন্, প্রতিবেদনের ছবি সঙগৃহিত