জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোতে দুর্নীতি পরিচালক বদলি

images

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতি চলতে থাকলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু এক দফতর থেকে আরেক দফতরে বদলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে তাদের কার্যক্রম।
বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র নিতে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের সরকারি ফি জমা দেয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থ গোনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এর সবই হচ্ছে প্রকাশ্যে।
শুধু তাই নয়, একটি এজেন্সির প্রতিনিধি বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য ঘুষ ছাড়া ফাইল ছাড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে তিনি ওই ফাইল ছাড়াতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালককে দিয়ে সুপারিশ করিয়েছেন তার অধীনস্থ এক কর্মকর্তাকে। কিন্তু ওই কর্মকর্তা তাকে জানিয়ে দেন সিন্ডিকেটের বাইরে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। এই অভিযোগ অনেকেরই।
এ দিকে হঠাৎ করেই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) এ কে এম টিপু সুলতানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানের উপসচিব আতিকুর রহমানকে পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর টিপু সুলতানকে পরিচালক প্রশাসন পদে বদলি করা হয়েছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে, বিদেশগামী শ্রমিকদের ছাড়পত্র দেয়ার ঘটনা নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে অনেকেই জানতে পারেন। অনিয়মের বিষয়টি ছিল আলোচনায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তাকে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার রাতে একাধিকবার টিপু সুলতানের সাথে যোগাযোগ করে তার বদলির কারণ জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি টেলিফোন ধরেননি। অভিযোগ রয়েছে, বহির্গমন শাখায় অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছেন এমন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো বহাল থাকায় সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ব্যুরো থেকে অনিয়ম দূর হওয়া জরুরি। নতুবা অভিবাসন ব্যয় কোনো দিনও কমবে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশগামী শ্রমিকদের ছাড়পত্র দেয়ার নামে অবৈধ উপায়ে প্রতিদিন ছাড়পত্র প্রদানে অনিয়ম, জালিয়াতি হচ্ছে বহির্গমন শাখায়। এর মধ্যে সৌদি আরবগামী প্রতিটি ছাড়পত্রের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বাড়তি অর্থ গোনতে হচ্ছে। গ্রুপ ভেঙে সিন্ডিকেটের অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধান দল হঠাৎ ওই দফতরে হাজির হয়। এর পর থেকেই তারা বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর নজরদারি শুরু করেন। দুদক কর্মকর্তারা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের সাথে তার দফতরে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকও করেন।
এ দিকে ব্যুরোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বহির্গমন ছাড়পত্র বাণিজ্য নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের কথা ছাড়া কেউই বহির্গমন ছাড়পত্র করাতে পারছে না। আর প্রতিটি বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য সিন্ডিকেটকে আগে দিতে হতো ১৬ হাজার টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ২২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। নতুবা ফাইল পড়ে থাকে দিনের পর দিন। এটি বেশি হচ্ছে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে।
রিক্রুটিং এজেন্সির একজন মালিকের প্রতিনিধি নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে অভিযোগ করে বলেন, আমি একটি এজেন্সীর প্রতিনিধি। আমার সৌদি আরবগামী বহির্গমন ফাইল ছাড়ানোর জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা স্যারকে দিয়ে ব্যুরোর এক কর্মকর্তাকে টেলিফোন করিয়েছিলাম। কিন্তু সিন্ডিকেটের সদস্যরা টাকা ছাড়া আমার ফাইল কোনো মতেই ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন। এখন বুঝেন তারা কত শক্তিশালী? তিনি বলেন, গ্রুপ ভেঙে বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার দোষে যদি বহির্গমন পরিচালককে বদলি করা হতে পারে তাহলে তার সহযোগীরা কি করে এখনো বহাল থাকেন?
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অনিয়ম দুর্নীতি আর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় তিন-চার হাজার শ্রমিকের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ব্যুরো থেকে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ও জানে। এর মধ্যে সৌদি আরবের নাজরান ভিসার সংখ্যাই বেশি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে তদন্ত করলেই আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

নয়া দিগন্ত