বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৮০০ কোটি টাকা

dhaka-stok

ঢাকা: ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ মাসের তুলনায় ২০১৬ সালের একই সময়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা।

ডিএসই সূত্র জানায়, চলতি বছরে ডিএসইতে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ হয়েছে ৯৫৫ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬১৬ টাকার, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৯৬ কোটি ৬২ টাকা বেশি। ২০১৫ সালের একই সময়ে লেনদেন হয়েছিলো ১০৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৩ টাকা।

নিট বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই ধরনের বিনিয়োগকারীরাই আগের বছরের চেয়ে শেয়ার কেনা-বেচাও করেছেন বেশি। ফলে লেনদেনও বেড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১১ মাসে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনেছেন ৪ হাজার ৩৭৬ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৬ টাকার। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার কিনেছিলেন ৩ হাজার ৪৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬ টাকার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

পাশাপাশি চলতি বছর বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৪২১ কোটি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৯ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর আগের বছর একই সময়ে ৩ ‍হাজার ৩৩২ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৩ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন তারা। চলতি বছর ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।

এ ক‍ারণে ২০১৬ সালের ১১ মাসে বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৭৯৭ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার ৩১৫ টাকার। এর আগের বছর লেনদেন হয়েছিলো ৬ হাজার ৭৭২ কোটি ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৮ টাকার। ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ১১ মাসে বিদেশি ও প্রবাসীদের লেনদেন বাড়লেও চলতি বছরের অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে ডিএসইতে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন কম হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।
সূত্র মতে, নভেম্বর মাসে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৭১ লাখ ৯ হাজার টাকার। এর আগের মাসে লেনদেন হয়েছিলো ৭৩৬ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকার। যা আগের মাসের তুলনায় ৬৮ কোটি ৮৪ লাখ ২ হাজার টাকা কম।

জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিদেশিদের দেশের বাজারে আনতে পুঁজিবাজারে নানা সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন, সফটওয়্যারের আধুনিকায়ন, বিএসইসিকে শক্তিশালীকরণ এবং আইনগত সংস্কার।

তাছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ পাস করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিএসইসি অনেককে জরিমানাও করছে। শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে।