নারী হয়রানি রুখতে প্রশাসন

pic-11

অনলাইন ডেস্ক : সরকার, বিভিন্ন এনজিও ও গণমাধ্যমগুলো নারী উত্ত্যক্ত রোধে নানা প্রচারণা চালালেও রাস্তায় বের হলেই মেয়েদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। বালিকা বিদ্যালয়গুলোর সামনে ছুটির সময় বা স্কুল শুরুর সময় খানিকক্ষণ দাঁড়ালে বোঝা যায় মেয়েরা কতটা হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর পাশে ছেলেদের স্কুল থাকলে তো কথাই নেই।

কিছুদিন আগের ঘটনা, যশোর জিলা স্কুলের একজন ছাত্র যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলে স্কুলের ছাত্রীরা একজোট হয়ে তাকে জুতাপেটা করে ও পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এভাবে প্রতিবাদ হয়। কিন্তু এমন প্রতিবাদ যারা করে তাদের সংখ্যা হাতেগোনা।

এই বিষয়ে যশোর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফজর আলীর সঙ্গে কথা হয়।

তিনি এগুলোকে বড় সমস্যা হিসেবেই দেখেন। এসব রোধে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে জোর দেন।

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতির পাশাপাশি এসব ঘটনা পরিবার এবং স্কুলের সুনাম নষ্ট করে বলে তার ধারণা।

যশোর জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত রোধে জেলা প্রশাসক পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

যশোরে এক স্কুলের শিক্ষার্থী অন্য স্কুলের সামনে অথবা বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের পৌর উদ্যানে অকারণে কেউ ঘোরাফেরা করতে পারবে না। এমন দেখলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

এরই ধারাবাহিকতায় যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর মে মাসে যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে ‘ছাত্র ও শিক্ষক মতবিনিময় সভা’র আহ্বান করেন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিলা স্কুলের শিক্ষক ও উভয় শিফটের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্ররা।

সভায় জেলা প্রশাসক ছাত্র এবং শিক্ষকদের সচেনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং স্কুলের নিয়ম শৃঙ্খলা কঠোর করার কথা বলেন।

এসময় তিনি অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর জোর দেন।

মেয়েরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাজ। নারীকে পিছিয়ে রেখে সমাজ বা দেশের কোন উন্নতি সম্ভব না। নারীমুক্তি সম্ভব করতে হলে এখন থেকে সচেতনা দরকার।