৯৯% কারখানায় বেতন-বোনাস সম্পন্ন দাবি বিজিএমইএ’র

4

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : প্রায় ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানায় কোন সমস্যা ছাড়াই শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাসের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সমস্যা সংবলিত কারখানাগুলো নিয়ে বিজিএমইএ’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সোয়ান গার্মেন্ট নিয়ে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কারখানাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিমি, দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি, রিয়াজ বিন মাহমুদ (অর্থ) উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন-ভাতাদি পায়; সেজন্য সরকার ও আমরা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ কাজে ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ৩ হাজার পোশাক কারখানার জন্য ১৫টি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করেছি। যার মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মোট ১৪৮৯টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জুন মাসের বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৪৮৭টি কারখানার। ঈদ বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১৪৮৩টি কারখানার। আবার জুলাই মাসের আংশিক বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩১৫টি কারখানার।
আতিকুল ইসলাম জানান, ৩ হাজার ২০০টি কারখানার মধ্যে মাত্র ২টি কারখানা এখনও বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি। তবে এ কারখানা দুটির (গিতানো ও গার্মেক্স) শ্রমিকদের বেতন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তৈরী পোশাকের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, পোশাক খাত সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে। এখনও গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কাটেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি যেখানে বেড়েছে; সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক খাতে পাকিস্তানে ৭.৪৬ শতাংশ, ভারতে ১০.৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১২.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সেখানে বাংলাদেশে বেড়েছে ২.৯৮ শতাংশ।
আতিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কাফফারা পোশাক মালিকদের দিতে হবে কেন প্রশ্ন রাখেন রাজনৈতিকদের কাছে। এছাড়া রুবল, পাউন্ড ও ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় রপ্তানি আয় কমেছে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে আতিকুল ইসলাম বলেন, সোয়ান গার্মেন্ট নিয়ে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কারখানাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কাজ করছে। কমিটিতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদ আহম্মদকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ ও শ্রমিক নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।