৮১ আরোহীর ৬ জন বেঁচে আছেন

5

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রাজিলের একটি ফুটবল দল নিয়ে কলম্বিয়ায় বিধ্বস্ত বিমানের ৮১ আরোহীর মধ্যে ছয়জন বেঁচে আছেন।

কলম্বিয়ার বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটিতে ব্রাজিলীয় ফুটবল ক্লাব শাপেকোয়েন্সের খেলোয়াড়সহ ৭২ যাত্রী এবং নয়জন ক্রু ছিলেন।

সোমবার মধ্যরাতে কলম্বিয়ার মেডিলিন শহরে অদূরে রিওনেগ্রো এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। কলম্বিয়ার বিমান পরিবহন কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লা সেজা ও লা ইউনিয়ন পৌরসভার মধ্যে থাকা অবস্থায় বিমানটি জরুরি সংকেত দেখায়। এর কয়েক মুহূর্ত পরে বিমানটি মেডিলিনের পাশে বিধ্বস্ত হয়।

বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, এ দুর্ঘটনায় তিনজন খেলোয়াড়, দুজন ক্রু ও একজন সাংবাদিক বেঁচে আছেন।

বেঁচে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে কমপক্ষে দুজন ফুটবল খেলোয়াড় ও একজন ক্রু। বেঁচে যাওয়া দুই খেলোয়াড় হলেন- অ্যালান লুসিয়ানো রাশেল ও জ্যাকসন রাগনার। আর জিমেনা সুয়ারেজ নামে একনজ ক্রু বেঁচে আছেন। জীবিতদের মধ্যে বাকি তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার কিছু সময় অ্যালানের স্ত্রী অ্যালিসেন রাশেল ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘হে ঈশ্বর, তোমাকে ধন্যবাদ… ঈশ্বরের আশীর্বাদ করেছেন এবং পরিবারের সব সদস্যকে শক্তি দিয়েছেন।’

কী ঘটেছে?
বিমান নিয়ন্ত্রক পালামাসের দেওয়া তথ্যমতে, বলিভিয়ার ভিরু ভিরু বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে।

কী কারণে এ দুর্ঘটনা তা পরিষ্কার করে বলতে না পারলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জীবিত অবস্থায় উদ্ধারকৃতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা স্থানের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের বিধ্বস্ত অংশগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিধ্বস্ত অংশে শাপেকোয়েন্সের লোগো লেপটে থাকতে দেখা গেছে।

মেডিলিনের মেয়র ফেডেরিকো গুটিয়েরেজ এক টুইটে জানিয়েছেন, এখানে দেখার মতো বিষয় হলো- এ দুর্ঘটনায় কিছু প্রাণের রক্ষা হয়েছে। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আবহাওয়া ও বাতাসের গতি
সিএনএনের আবহাওয়াবিদ মাইকেল গাই স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগের ১২ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে থেকে থেকে বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ঝড় হয়নি। বজ্রঝড় ও পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় বাতাসের গতি উন্মাতাল হয়ে থাকতে পারে।

হোসে মারিয়া করডোভা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুধু স্থলপথে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব। কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী ঘটনাস্থলে বিমানযোগে পৌঁছাতে পারেনি।

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার ফুটবল প্রতিযোগিতা কোপা সুদামেরিকানার ফাইনালে বুধবার কলম্বিয়ার অ্যাটলেটিকো ন্যাশনালের বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা ছিল শাপেকোয়েন্সের। কিন্তু তা আর হলো না। ম্যাচ জিতলে বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরতেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু এখন লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের।