২০২০ সালের শুরুতে শেখ হাসিনার সফর চায় জাপান

2

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ২০২০ সালের শুরুতে আবারও দ্বিপাক্ষিক সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে চায় জাপান। সেই আমন্ত্রণ জানানো এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ জাপান সফরের ফলোআপ সফরে ঢাকা আসছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২৮ জুলাই ঢাকা আসার কথা রয়েছে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনদিনের এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু তার সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকবেন। ফলে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে জাপান যাবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আসছে অক্টোবরে শপথ নিতে যাচ্ছে জাপানের নতুন সম্রাট। ওই শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্বের ২০০টির মতো দেশ থেকে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেবেন বলে টোকিও আশা করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এতে যোগ দেবেন। এছাড়া ২০২০ সালের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্বিপাক্ষিক সফরে আমন্ত্রণ জানাতে চায় জাপান।

সূত্র জানায়, আগামী বছরের শুরুর দিকে অথবা মার্চের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের জন্য সময় চেয়েছে জাপান। এ সময়ে সফর করলে জাপানের সাকুরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের সম্রাটের সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে ‘নিকে’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এ সময় দু’দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ৪০তম ওডিএ সহযোগিতা চুক্তি সই হয়।

এটি বাংলাদেশের পাওয়া এক বছরে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা। এ অর্থ দিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটিসহ মোট পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফর নিয়েও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো জানতে চাইবেন বলে ধারণা করছেন কূটনৈতিকরা। কারণ, বর্তমানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর জের ধরে দুই দেশ নিজেদের বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।