সৌদি ভিসা সেন্টার বন্ধের দাবীতে বায়রার বঞ্চিতদের প্রতিবাদ সভা সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচী ঘোষনা

8

নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ার পর এবার সৌদি আরবের বৃহৎ শ্রমবাজার কুক্ষিগত করতে “সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টার” (ড্রপবক্স) চালু করতে আব্দুল হাই গংরা গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছেন। তাদের ড্রপবক্স ফর্মুলার সাথে শতকরা ৯৫ ভাগ সদস্যই নাই। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত ঢাকায় চালু হতে যাওয়া সৌদি ভিসা সেন্টার এর কার্যক্রম বাতিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসুচী চালিয়ে যাবো। এতে আমাদের উপর যতই হুমকি ধামকী আসুক না কেনো ?
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে “ভিসা সেন্টার নির্মূল কমিটির” ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভায় জনশক্তি রফতানীকারক ব্যবসায়ীদের (বায়রা) বঞ্চিত একটি অংশের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচীর মধ্যে আজ রোববার বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষনা দেয়া হয়। কর্মসুচীর মধ্যে সৌদি ভিসা সেন্টারে সাধারণ সদস্যদের পাসপোার্ট জমা না দেয়া, প্রয়োজনে সৌদি আরবে মহিলা কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখা, বায়রা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসুচী পালনসহ বেশকিছু কর্মসুচী ঘোষনা করা হয় প্রতিবাদ সভা থেকে।
এরআগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীস এর প্যাডে সভাপতি বেনজির আহমদ এমপি স্বাক্ষরিত ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে পাঠানো দুটি চিঠির ফটোকপি সাংবাদিকদের কাছে দেয়া হয়।
‘সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টার’ (ড্রপবক্স) নির্মূল কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ আব্দুল আলিম এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন মহিলা শ্রমিক প্রেরনকারী সংগঠন ফোরাব এর সভাপতি টিপু সুলতান, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান। এছাড়া নির্মুল কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন, মতিউর রহমান খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচী ঘোষনা করে সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টার নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ড্রপবক্স সিস্টেম বন্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বায়রার কোন সদস্যই ১০০ টাকা করে চাদা দেবে না। বায়রা হচ্ছে আমাদেরতে সহায়তা করার জন্য। এখন সেই সংগঠনই আমাদের কাছ থেকে চাদা নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে। আমি আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি, যতক্ষণ এই ড্রপবক্স বাতিল না হবে ততক্ষণ আমরা কারো সাথে আপস করবো না। অপর এক বক্তা বলেন, সৌদি ভিসা সেন্টারের নামে সিন্ডিকেটের সদস্যরা এক বছরে দুই’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে। আর এই টাকার ভাগ ঢাকার সৌদি দুতাবাস থেকে বিদায় নিতে যাওয়া এক কর্মকর্তাও পাচ্ছেন বলে শুনেছি। ভিসা সেন্টার নির্মুল কমিটির আহবায়ক আব্দুল আলীম বলেন, জনশক্তি রফতানীতে সিন্ডিকেশন নামটা হচ্ছে ক্যান্সারের মতো। মালয়েশিয়ার ব্যবসা এই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই শেষ করে দিয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ সরকার এসে চিহিৃত ১০ জনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লোক না নেয়ার সিদ্দান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়ার পর এবার ড্রপবক্সের নামে সৌৗদি আরবের ব্যবসায়ও একই গ্রুপ ভিসা সার্ভিস সেন্টার করার নামে ৫০ জনকে নিয়ে নতুন করে সিন্ডিকেট করেছে। তিনি দ্রুত এ্ই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে পুরানা পল্টনের হোটেলে বঞ্চিতদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ঢাকার গুলশানের দুটি অফিস থেকে সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টারের কার্যক্রম আজ রোববার থেকে কিভাবে পরিচালিত হবে সেই ব্যাপারে রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিক এবং প্রতিনিধিদের নিয়ে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলীর সভাপতিত্বে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বায়রার সাধারণ সদস্য ছাড়াও ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি দুতাবাসের (শ্রম) কাউন্সেলরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরআগে সৌদি ভিসা সেন্টারের মুল উদ্যেক্তা গ্রীনল্যান্ড গ্রুপের স্বত্তাধিকারী মো. আব্দুল হ্ইা বলেছিলেন, এ্যাম্বাসী থেকেই সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টার চালূ হউক। সেটা তারা চাচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই বলারও নেই। দুতাবাস এলাকায় পাসপোর্ট নিয়ে গেদারিং করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা উদ্বিগ্ন ছিলো। মূলত কুটনৈতিক পাড়ায় যে কোন ধরনের বিশৃংখলা এড়ানোর জন্যই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নিয়মকে বায়রাও স্বাগত জানিয়েছে।