সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি

8

সিলেট প্রতিনিধি :

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রথম দিনে ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ ও জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। রাস্তায় নামেনি তেমন গাড়িও। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যানবাহনগুলোও আটকে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। সরেজমিন দেখে গেছে, সকাল ৯টায় বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি আটকে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে সদরের প্রবেশমুখ ‘হাসিমের মোড়’-এ পিকেটিং করে একদল শ্রমিক। আটকে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থী বহনকারী গাড়িও। এসময় যাত্রীরা পায়ে হেঁটে ও কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত রিকশায় গন্তব্যে পৌঁছান।

অন্যদিকে, মহাসড়ক থেকে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের প্রবেশমুখে রশিদপুর এলাকায় পিকেটিং করেন স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতাকর্মীরা। সড়কে এলোমেলো করে বাস রেখে বন্ধ করে দেওয়া হয় পথ। পরে সেখানে উপস্থিত হয় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে ‘এরিয়া’ নিজেদের নয় জেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। তখন ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন দুই উপজেলার অসংখ্য যাত্রী।

জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে একেবারে বেহাল থাকায় যানবাহন ও পথচারীরা চলাচলে পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ। সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে একেরপর এক প্রকাশ হয়ে আসছে। সড়কটি সংস্কারের জন্যে
দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবহন শ্রমিক ও এলাকাবাসী। এরপরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি সড়ক সংস্কারের। যাত্রীরা জানান, জরুরি প্রয়োজনেই ঘর থেকে বের হয়েছি। এখন গন্তব্যে পৌঁছা অনিশ্চিত। নাজুক রাস্তার করণেই আজ আমাদের এই করুণ অবস্থা।

বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-লামাকাজী-সিংঙ্গেরকাছ সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও বিশ্বনাথ সদর ইউপি সদস্য ফজর আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অসংখ্য ছোটবড় গর্তে ভরপুর বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক। অল্প বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোয় পানি জমে তৈরি হয় মিনি পুকুর। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী, চালকসহ পথচারীরা। এমন পরিস্থিতিতে এ সড়ক দিয়ে বাস চলাচল করা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের জীবনের
নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ ধর্মঘট।