সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন ইন্সুরেন্স না থাকায় বাংলাদেশী কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে

16

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের ব্যস্ত বিমানবন্দরের মধ্যে অন্যতম সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। দেশটির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটক পাড়ি জমাচ্ছেন। মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ার কোলঘেঁষা ছোট্ট এই দ্বীপ দেশটিতে পর্যটনের পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন পাড়ি জমাচ্ছেন শত শত বাংলাদেশি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা ও ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু চাঙ্গি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে নেমে বাংলাদেশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভ’ক্তভোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে কুটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশনে হয়রানীর শিকার হয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশীদের অভিযোগ আগে ইমিগ্রেশনে এন্ট্রি পেতে খুব একটা সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন সেখানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন। এতে প্র্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে কারো কারো কপাল পোড়ে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে দিতে বিমানে তুলে দিচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভিসা ঠিক থাকার পরও শ্রমিকদেরও ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগই ফিরিয়ে দেয়ার প্রধান কারণ ইন্স্যুরেন্স না থাকা।
বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়ে রীতিমতো হাসি-ঠাট্টা করেন দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। আলাদা রুমে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অনেককে। পরে তাদের মনমতো উত্তর দিতে পারলে সিঙ্গাপুর ঢুকতে দেওয়া হয়, না পারলে ফিরতে হয় দেশে। তবে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার পর্যটকরাও। প্রতিদিন অন্তত অর্ধশত পর্যটককে ফিরিয়ে দেয় সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট অথরিটি।
পর্যটক ভিসায় সিঙ্গাপুর গমন করেছিলেন রাজশাহীর আপেল মাহমুদ। অনলাইনে হোটেল বুকিংও দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা অগ্রীম পরিশোধ না করার অজুহাত দেখিয়ে তাকে ঢুকতে দেয়নি ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট অথরিটি। এছাড়া তিনি একা সিঙ্গাপুরে কেন গেছেন, এমন নানান প্রশ্নে জর্জরিত করা হয় তাকে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কী কী পর্যটন স্পট রয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়।
এমনই আরেকজন ঢাকার রাহুল। তিনিও হোটেল বুকিং দিয়েছেন, কিন্তু টাকা না পরিশোধের অজুহাতে তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন এমন অন্তত অর্ধশত ঘটনা ঘটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশিরা। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সরকারকে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রবাসী ও পর্যটকরা।