রোহিঙ্গাদের নিয়ে হার্ডলাইনে সরকার

1
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ধীরে ধীরে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া ও উখিয়ায় সমাবেশের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপে ধীরে ধীরে সরকারের শক্ত অবস্থানও ফুটে উঠছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, গত ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নেয় সরকার। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, উসকানি দেওয়ার অভিযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়। তবে, সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গত ২৫ আগস্ট টেকনাফের উখিয়ায় রোহিঙ্গা সমাবেশ। এ সমাবেশের তথ্য মাঠ প্রশাসন জানলেও জানতো না কেন্দ্রীয় প্রশাসন। দুই প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে পরবর্তীকালে কক্সবাজারের শরণার্থী ও ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুব আলম তালুকদার। রোহিঙ্গারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। অথচ, সিম কিনতে হলে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখাতে হয়। এরপরও তারা কীভাবে মোবাইলের সিম পাচ্ছিল, তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। শেষ পর্যন্ত, গত ২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধে দেশের সব অপারেটরকে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি)। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সব ধরনের মোবাইল ফোন সুবিধা বন্ধ করতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩৯টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কাজ করে আসছিল। এদের মধ্যে প্রথমে ৪১টি ও পরে ধাপে ধাপে বন্ধ করা হয় আরও কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রম। তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা ধরনের উসকানি ও সমাবেশে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আরও অন্তত ২০টি এনজিওর কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করছে সরকার। এদের বিরুদ্ধে সরকার থেকে ভবিষ্যতে আরও শক্ত পদক্ষেপ আসতে পারে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরেও হার্ডলাইনে যেতে পারে সরকার। ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তরে সরকার কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও তারা সেখানে যেতে আগ্রহী নয়। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা চলছে। তবে, অধিকাংশ রোহিঙ্গাই ভাসানচরে যেতে আগ্রহী নয়। এ কারণে তাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার আরও কঠোর হতে পারে বলে শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মর্কতারা আভাস দিয়েছেন।  রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলানিউজকে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ প্রক্রিয়ায় যারা বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। মোবাইল সিম পেতে হলে এনআইডির প্রয়োজন হয়। রোহিঙ্গাদের কাছে সেটি নেই। তারপরও কীভাবে তারা মোবাইল চালাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের দুইদিন পরেই বিটিআরসি থেকে রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।