রাজধানী জুড়ে শুরু হচ্ছে মাদক বিরোধী অভিযান

0

ঢাকা: আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানী জুড়ে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

নির্বাচনকে ঘিরে যেন মাদকের বিস্তার না ঘটতে পারে সে জন্যই এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সব বিভাগের মাদক উদ্ধার টিম থাকছে।

নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোন ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে সে জন্য যেমন সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে এ জন্য গোয়েন্দা তথ্যও প্রস্তুত করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে রাজধানীর অন্তত দেড় হাজার মাদক ব্যবসায়ীর নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বস্তিসহ মাদকের বড় স্পট হিসেবে পাঁচ শতাধিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানী জুড়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের গ্রেফতারেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনকালীন যেন মাদকের বিস্তার না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করে ইতিমধ্যে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদকের চিহ্নিত বিপজ্জনক স্পট: সম্প্রতি গোয়েন্দাদের তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, মাদক স্পটের সংখ্যা রয়েছে পাঁচশ’রও বেশি। এর মধ্যে লালবাগের শহীদনগর ১ থেকে ৬ নম্বর গলি, মৌলভীবাজার কাঁচাবাজার ও বলিয়াদী হাউস এলাকা, বালুরঘাট বেড়িবাঁধ, কোতোয়ালি থানা এলাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এবং কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টারের আশপাশের এলাকা, সামসাবাদ এলাকার জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশ, বাবুবাজার ব্রিজের ঢাল, বুড়ির বাগান, স্টার সিনেমা হলের সামনে, নয়াবাজার ব্রিজের ঢালে, নয়াবাজার ইউসুফ মার্কেট ও আশপাশসহ ২০টি স্পটে মাদক বিক্রি হয়।

রমনা মডেল থানা এলাকার মাদক স্পটগুলো হচ্ছে-দিলু রোডের পশ্চিম মাথা, মগবাজার রেলক্রসিং-সংলগ্ন কাঁচাবাজার, আমবাগান চলি্লশঘর বস্তি, পেয়ারাবাগ বস্তি, মধুবাগ ঝিলপাড়, মালিবাগ রেলক্রসিং থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত এলাকা।

শাহবাগ থানা এলাকায় ফুলবাড়িয়া সেক্রেটারিয়েট রোডের আনন্দবাজার বস্তি, ওসমানী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, টিএসসি, তিন নেতার মাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, কাঁটাবন এলাকার ভাসমান বিক্রয় স্পট। মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় জজ মিয়ার বস্তি সবচেয়ে বড় মাদক স্পট।

কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার ট্যানারি পুকুরপাড়, পাকা পোল, কয়লাঘাট বেড়িবাঁধসহ ১৮টি স্পটে মাদক বিক্রি হচ্ছে। সূত্রাপুরে স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে রেললাইন সামাপাড়া বস্তি, মুরগিপট্টি, ধূপখোলা মাঠ, মুন্সিরটেক কবরস্থান, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার ধলপুর সিটি পল্লী, ওয়াসা বস্তি, আইডিয়াল স্কুল গলি, নবুর বস্তি, বউবাজার গলি, লিচুবাগানসহ ২৮ স্পটে মাদক বিক্রি হয়।

শ্যামপুর থানা এলাকার জুরাইন রেলগেট, ব্রাদার্স ক্লাব সংলগ্ন মাঠ, ধোলাইখাল, নোয়াখালী পট্টি, মুরাদপুর মাদ্রাসা লেন, বেলতলা, শ্যামপুর বাজারসহ ৩০টি মাদক স্পট রয়েছে।

এ ছাড়াও ডেমরা থানা এলাকায় ছয়টি, মিরপুর মডেল থানা এলাকায় আটটি, পল্লবী থানা এলাকায় ২৪টি, কাফরুল থানা এলাকায় ১০টি, শাহআলী থানায় চারটি, বাড্ডায় ১৫টি, ভাটারা থানা এলাকায় তিনটি, খিলক্ষেত থানা এলাকায় পাঁচটি, ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় তিনটি, উত্তরা মডেল থানায় নয়টি, বিমানবন্দর থানা এলাকায় তিনটি, তুরাগ থানা এলাকায় আটটি, উত্তরখান থানা এলাকায় ১১টি ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় ১৩টি মাদক স্পট রয়েছে।

তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী: অন্যতম রাজধানীর প্রধান প্রধান স্পটগুলোর মধ্যে আনন্দবাজার বস্তি অন্যতম। এখানে রয়েছে মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে চিহ্নিত বানুর মাদক স্পট। এর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নিমতলী বস্তির সাবিনা ও পারুলের। পাইন্যা সর্দারের বস্তির রেণু, গণকটুলির মনোয়ারা রহমান নাছিমা, শ্যামপুরের ফজিলা, রানী বেগম এবং পারুলী।

শাহীনবাগের পারভীন, তেজকুনিপাড়ার সনি, হিরা, নাসিমা। হাজারীবাগের স্বপ্না, কলাবাগানের ফারহানা ইসলাম তুলি, চানখাঁরপুলের পারুল, বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকার সুমি,  পাঁচতলা এলাকার কোহিনুর, আদর্শনগরের পিচ্চি মোশারফ, পিচ্চি শহিদ, মোল্লাপাড়ার রেহেনা, সুন্দরী মিঠু, একই এলাকার কানা কাউসার, মোল্লা পাড়ার কানা কাউসার, লিটন মোল্লা পোস্ট অফিসের গলির লম্বা মোশারফ, মুনা, ১১ স্মরণীর কামাল, কাঁচাবাজার এলাকার আরিফ, আলী ও তার স্ত্রী, পাঁচতলা বাজারের পিচ্চি শহীদের বোন, আনন্দনগরের আনোয়ার।

রামপুরের সীমা, শাহজাহানপুরের মুক্তা বিশেষভাবে ড্রাগ কুইন বা মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে চিহ্নিত। এদের নানাভাবে সহযোগিতা করে মাদক সম্রাট দাঁইত্যা বাবু, ডাইল আশরাফ, মতি, মিন্টু, দস্যু ইব্রাহীম, নুরনবী মুকুল আলম, রুবেল, সাত্তার সাহাবুদ্দীন, সন্ত্রাসী জলিল, কানা সেলিম, ন্যাটা মাসুদ।

মহাখালীর আলোচিত মাদকসম্রাজ্ঞী হলো জাকিয়া ওরফে ইভা, রওশন আরা বানু। বনানীর শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী আইরিন ওরফে ইভা। গুলশানের অতি পরিচিত মাদক সম্রাজ্ঞী হলো মৌ এবং বারিধারার নাদিয়া ও যুথী। উত্তরার গুলবাহার, নাদিয়া এবং মাহমুদা ওরফে মুক্তি। সাততলা বস্তি এলাকায় জামরুল, কামরুল, সীমা, পিংকু, রুমা, রুবেল, জামাই নাজিমুদ্দিন, সোহেল জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কড়াইল বস্তিতে প্রধান প্রধান মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে রিনা, জোসনা, মাস্টার আলমগীর, জলিল, বেলতলার ফুল মিয়া, বিউটি ও নূরু।

রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। সিটি কর্পোশেন নির্বাচন উপলক্ষে যেন মাদকের বিস্তার না ঘটে সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাড্ডা থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল ফারুক বলেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রায় প্রতিদিন গ্রেফতারও হচ্ছে।

পল্লবী থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জমান বাংলানিউজকে বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। দিনে রাতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।