যেভাবে টেন্ডার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন শামীম

0

টেন্ডার মুঘল জি কে শামীম। বড় বড় সব সরকারি কাজ ছিল তার কব্জায়। শুধু তার নিজের প্রতিষ্ঠান জিকে এন্ড বি কোম্পানির নামেই তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলছিল। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আরও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার কাজ তার দখলে ছিল। অন্য কোম্পানির কাজ চললেও সেখান থেকে নিয়মিত কমিশন পেতেন জিকে শামীম। আর এসব করতে তার কৌশলেরও অভাব ছিলো না। সংশ্লিষ্টদের নিজের কব্জায় রাখতে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থাও করতেন। গোপন ক্যামেরায় সেগুলোর আপত্তিকর ভিডিও ধারন করে পরবর্তীতে ফাঁদে ফেলতেন।

সূত্র জানায়, টেন্ডার বাগিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে নিকেতনে থাকা জি কে শামীমের তার ৭-৮টি ফ্ল্যাটে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হতো। সেখানে আসতো বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বড় বড় প্রকৌশলীরা। গোপন ক্যামেরায় নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে ওইসব দেখিয়ে তার পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

সূত্র আরও জানায়, জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ ১০ জন সহযোগি ছিলেন। তারা তাকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে বা নিয়ন্ত্রণ নিতে সহযোগিতা করতেন। এই ১০ জনের তালিকায় ওঠে এসেছে, সজল, রণক, মোল্লা, জন, মিলন, সজল, দিদার, রনি, বাবু, মিল্টনের নাম। তাদের একেকজনের কাজ ভাগ করা ছিল। একেক জন জিকে শামীমের কাজের একেকদিন সামলাতেন।

এদের মধ্যে সজল দরপত্র আহ্বান করার পরপরই মনিটরিং করতেন। ওই সময় তার কাজ ছিলো, কোন কোম্পানি টেন্ডারে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার খোঁজ-খবর নেয়। এরপর সেখান থেকে সরে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে হুমকি দিতেন। পরে রণক ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে তাদের বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজ করতেন। এ সময় রানা মোল্লা, জন, মিলন, সজল, দিদার, রনি, বাবু, মিল্টনকে সঙ্গে নিতেন রণক।

ওই ১০ সহযোগিকে খুঁজছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তাদের ওপর নজর হচ্ছে। তারা যেনো দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য সবকটি স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জি কে শামীম নিজেই এসবের সমমন্বয় করতেন। তবে কখনো কখনো তার অনুপস্থিতিতে দেখাশোনা করতেন তার বড় ভাই নাসিম।

ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে গত ২০শে সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা,  পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ জব্দ করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়  শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে। পরবর্তীতে দুই দফায় অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং মামলায় ১৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

mzamin.com