যেভাবে কাটলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০০০ দিন

12

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স স্বপ্নের ১ হাজার দিন অতিত্রম করেছে। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই যাত্রা শুরু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে একের পর এক নজির স্থাপন করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। এরমধ্যে সাফল্যের মাইলফলক বেশী।

বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক এভিয়েশন ব্যবসায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৭৬ আসন বিশিষ্ট দু’টি কানাডার বোম্বারডিয়ার তৈরী ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ সিরিজের এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রথম ফাইট অপারেশন শুরু করে। অল্প সময়ে আরো একটি ৭৮ আসনের ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট বহরে যোগ হয়। আর শুরু থেকেই ইউএস বাংলা নিজস্ব ক্যাটারিং, নিজস্ব টেইলারিংসহ ইন-হাউজ ট্রেনিং সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইন-ফাইট সার্ভিস দিয়ে যাত্রী সাধারনের কাছে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

এক বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীন রুটে ফাইট পরিচালনা স্বল্পতম সময়ে জনগনকে আকাশপথের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সূদৃঢ়।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফাইট পরিচালনা করছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ফাইট পরিচালনার সাফল্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্য ফাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। যার ফলশ্রুতিতে যাত্রা শুরুর দু’বছরের মধ্যে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফাইট পরিচালনার মধ্যেমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রবেশ করে।

বর্তমানে কাঠমান্ডু ছাড়াও কলকাতা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর রুটে নিয়মিত ফাইট পরিচালনা করছে। আগামী ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা এবং ৩ মে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক রুটে ফাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর) মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বহরে ১৬৪ আসনের তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট যুক্ত হয়েছে বহরে। যাতে রয়েছে আরামদায়ক ৮টি বিজনেস কাস ও ১৫৬টি ইকোনমি কাসের আসন ব্যবস্থা। রয়েছে নিজস্ব ইন-ফাইট ম্যাগাজিন “ব্লু স্কাই”।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সপ্তাহে ২০০টির অধিক ফাইট পরিচালিত হচ্ছে। ১০০০ দিনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রায় চব্বিশ হাজার ফাইট পরিচালনা করে বিমান পরিবহনে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর পর আবহাওয়াজনিত কারন ছাড়া কোনো ধরনের ফাইট বাতিলের নজির নেই। এখন পর্যন্ত ৯৮.৭% অন-টাইম ফাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের।

যাত্রী সেবার নজির স্থাপন করায় স্বীকৃতিস্বরূপ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে গত তিন বছর ধরে সেরা এয়ারলাইন্সের মুকুট অর্জন করছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ১২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে। যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখে চলেছে। সাথে আন্তর্জাতিক রুটে ফাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে করছে আরো সূদৃঢ়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর ১০০০ তম দিনের চলার পথে এ ব্যবসার সাথে সম্পৃত্ত সকল ট্রাভেল এজেন্সীর ব্যবসাকেও করেছে সুসংহত। বাংলাদেশসহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে প্রায় দু’হাজার ট্রাভেল এজেন্ট রয়েছে ইউএস-বাংলার সাথে যা সময়ের হিসেবে সত্যিই অকল্পনীয়। সাথে রয়েছে বাংলাদেশের স্বনামধণ্য সকল কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ। ইউএস-বাংলার টিকেট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে অন-লাইন বুকিং সুবিধা। হোম ডেলিভারী সুবিধাও রয়েছে। সারাদেশে নিজস্ব ৩০টি সেলস্ অফিস রয়েছে। এছাড়া কাঠমান্ডু, কলকাতা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দোহা, কানাডা, নিউইয়র্ক এ নিজস্ব সেলস্ অফিস রয়েছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার প্যাকেজ। যার মাধ্যমে যাত্রীরা শুধু টিকেটের সুবিধাই পাবেন না বরং যাত্রীরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধাও পেয়ে থাকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদেরকে বেশ কয়েকটি সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এভিয়েশন শিল্পে। উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আন্তর্জাতিক রুটের বিজনেস কাসের যাত্রীদের জন্য রয়েছে পিক-ড্রপ সার্ভিস, আন্তর্জাতিক ফাইট অবতরনের পর ১০ মিনিটে ল্যাগেজ ডেলিভারী, ওয়েজ আর্নার্সদের জন্য বিমানবন্দরে প্রবাসী সহায়তা ডেস্ক, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ২০% মূল্যছাড়, সামরিকবাহিনীর কর্মকর্তা ও গলফারদের রয়েছে ১০% মূল্যছাড়সহ আরো নানাবিধ সুবিধা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শুধু যাত্রীই পরিবহন করে না সাথে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহন করে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খেলাধূলার উন্নয়নের সাথে ওতোপ্রতোভাবে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এক হাজার দিন অতিক্রম উপলক্ষে, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃত্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।