যশোরের দুই নারীকে ভারতের পতিতালয়ে বিক্রি, গ্রেফতার দুই

0

চাকরির প্রলোভনে যশোরের দুই নারীকে ভারতে পাচার ও পতিতালয়ে বিক্রি ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারত থেকে পালিয়ে আসা এক ভিকটিম পুলিশের কাছে পাচার ও পতিতালয়ে বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার পুলিশের অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় পাচারকারী যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি জামরুল তলা এলাকার আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম ও তার স্বামী হালিম মোল্যাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনের নামে মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ভারতের সীমা সাহা। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার এক ভিকটিম পুলিশের ‘ক’ সার্কেল অফিসে অভিযোগ করেন চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রতারণা ও প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে চাকরি দেয়ার কথা বলে আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম প্রতিবেশী দুই নারীকে তার বাসায় ডেকে নেন। সেখান থেকে শহরের চাঁচড়া মোড়ে গিয়ে বাসে ওঠে বেনাপোল হয়ে পুটখালী সীমান্তে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। সীমান্ত পার হয়ে তাদেরকে ভারতের সীমা সাহা নামে এক নারীর কাছে পাঠানো হয়। সেখানে আরও অনেক বিভিন্ন বয়সী বাংলাদেশি মেয়ে রয়েছে।

তারা ভিকটিমকে জানায়, আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম তাদের বাংলাদেশ থেকে এখানে পাচার করেছেন। সেখানে অবস্থানকালীন বাদীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারীর মুখ ফেসিয়াল ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ভারতের জেপিনগর নামক স্থানে এক হাসপাতালে রেখে আসেন সীমা সাহা। বাদীকে এক রুমের মধ্যে অজ্ঞান করে ডান বাহুর মাংস কেটে ও পেটের অপারেশনসহ মুখে কসমেটিকস সার্জারি করে। তাদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে নির্মম নির্যাতন করা হতো। তারা সেখান থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজতেন। সীমা সাহা তাদেরকে জানান দুই লাখ টাকায় তাদেরকে কিনে নিয়েছেন। দেড় মাস পর রাজ নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় ওই দুই নারী পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত রমজান মাসে বাদী, বাদীর স্বামী ও এলাকার লোকজন আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম বাড়িতে গিয়ে পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার বিষয়ে বললে তারা হুমকি দেন। এরপর মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরে অভিযোগ দেন বাদী। তারা তদন্ত করে আইনি সহায়তার জন্য ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি শেখের কাছে পাঠান। তিনি বাদীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তিনজনের নামে মামলা হয়েছে।