মুমিনুলের জন্য তামিমের আক্ষেপ

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  স্বভাব-চরিত্রে মুমিনুল হক বেশ শান্ত-শিষ্ট, অনুভূতি প্রকাশেও সলজ্জ। অনেক কিছুতেই তার নির্লিপ্ত মনোভাব দেখা গেছে। ফতুল্লা টেস্ট শুরুর আগে বলেছিলেন, রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না। এবি ডি ভিলিয়ার্সকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন না।

শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৩০ রান করে আউট হওয়ার পর মুমিনুলের অনুভূতি জানা যায়নি। তবে দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা তামিম ইকবালের কণ্ঠে ঠিকই ঝরেছে আক্ষেপ, আফসোসের সুর।

ম্যাচের আয়ু বাকি একদিন । ম্যাচের যা অবস্থা, বৃষ্টির যে র্দোদণ্ড প্রতাপ তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নামা মুমিনুলের জন্য দূরতম কল্পনাই বটে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে না পারলে, মুমিনুলকে গোটা ক্যারিয়ারই পুড়তে হবে ২০ রানের আফসোসে। শুধু মুমিনুল কেন, গোটা বাংলাদেশই সেখানে এই তরুণের সঙ্গী।

টেস্ট ক্রিকেটে টানা ১১ ম্যাচে (দুই ইনিংসের যে কোনো একটিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস) হাফ সেঞ্চুরি করার অনন্য গৌরবের অধিকারী মুমিনুল। যার টেস্ট ক্যারিয়ারই এখনও ১৫ ম্যাচের। ভারতের বিপক্ষে এই টেস্টে একটি হাফ সেঞ্চুরি করতে পারলেই বিশ্ব রেকর্ড গড়তেন কক্সবাজারের এই তরুণ। টানা ১২ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করে এবি ডি ভিলিয়ার্সের পাশে নাম লেখাতে পারতেন মুমিনুল।

কিন্তু শনিবার ৩০ রান করে হরভজনের বল তুলে মারতে গিয়ে উমেশ যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন মিড অফে। যা  তার জন্য স্বভাববিরুদ্ধ ক্রিকেটই বলতে হবে। আর সেখানেই হয়তো শেষ হলো বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখানোর সুযোগ! কারণ আরেকটি ইনিংস হয়তো আছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে আর সুযোগ পাবেন না মুমিনুল। হয়তো আর বিশ্বরেকর্ডও গড়া হবে না তার। তাতেই বা কম কী। টানা ১১ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করে মুমিনুল বসে আছেন স্যার ভিভ রিচার্ডস, শেবাগ ও গম্ভীরদের পাশেই।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের রেকর্ড গড়তে না পারা সম্পর্কে তামিম বলেন, “অবশ্যই হতাশ। ও (মুমিনুল) কতটুকু হতাশ তা আমি জানি না। যতটুকু ওকে চিনি ও রেকর্ডস নিয়ে ভাবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলাম যেন, ও ৫০টা করুক, একটা রেকর্ড ওর হোক। আর এমন একটা টেস্টেই এই রেকর্ডটা পড়লো যে চারটি দিনে ১২০ ওভারের মত খেলা হয়েছে। হতাশ অবশ্যই। আমাদের দেশের থেকে একটা ক্রিকেটার যদি রেকর্ড বুকে থাকতো তাহলে কার না ভালো লাগত।”

২০১৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল মুমিনুলের সেই যাত্রা। সেটি ছিল তার চতুর্থ টেস্ট। তারপর থেকে প্রতিটি টেস্টে (দেশে ও দেশের বাইরে) অনন্ত একটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল তার। দুই ইনিংসের একটি তো অনন্ত ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন মুমিনুল। ফতুল্লাতেও শনিবার ঠিকই হাঁটছিলেন রেকর্ডের পথে। স্বাবলীল ব্যাটিংও করছিলেন। কিন্তু হরভজন অমন মারতে গিয়ে অপমৃত্যু ডেকে আনলেন নিজের ইনিংসের এবং ওই বিশ্ব রেকর্ডটার।