‘মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর একজন বাংলাদেশী হিসেবে খুব গর্ব হচ্ছিল’

4

ডেস্ক রিপোর্ট : মাকসুদা প্রিয়তি। গত বছরই বাংলাদেশের এই মেয়ে মিস আয়ারল্যান্ডের মুকুট মাথায় পরে দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন। বিশ্ব দরবারে তিনি আরও একবার প্রমাণ করেছেন আমরাও কোন অংশে কম নই। বর্তমানে তিনি আয়ারল্যান্ডে প্রাইভেট পাইলট হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি মডেলিংটাও চালিয়ে যাচ্ছেন। মিস আয়ারল্যান্ডের বাইরেও ‘মিস হট চকোলেট-২০১৪’ এবং ‘মিস ইউনিভার্সেল রয়াল-২০১৩’র মুকুটও মাথায় উঠেছে তার। তবে মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর তার জীবনটাও বদলে গেছে। যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই অন্যরকম সম্মান পাচ্ছেন। সম্প্রতি দেশে এসেছেন প্রিয়তি। তার এবারের সফরের উদ্দেশ্য দেশে পহেলা বৈশাখ পালন। কারণ, আয়ারল্যান্ডে থাকার কারণে দীর্ঘ আট বছর ধরে দেশে পহেলা বৈশাখ পালন করা হয় না তার। তাছাড়া বঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গেও যোগ দিয়েছেন তিনি। সেই সুবাদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রিয়তি। এছাড়া আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও সময় কাটাবেন তিনি। শত ব্যস্ততার মাঝেও সম্প্রতি মানবজমিনের সঙ্গে এক ঘরোয়া আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন প্রিয়তি। ফার্মগেটে প্রিয়তির ভাইয়ের বাসা ও ছাদে চলে জমজমাট আড্ডা ও ফটোসেশন। এ সময় গাঢ়ো গোলাপি রঙা টপস ও নীল জিন্স পরেছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল স্বর্গের সৌন্দর্য যেন ভর করেছিল তার ওপর। এবার দেশে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রিয়তি বলেন, দেশে আসতে অনেক ভাল লাগে। এবারও লাগছে। বিশেষ করে আট বছর ধরে দেশে পহেলা বৈশাখ পালন করা হয় না। এবার সেটা করেছি। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও আমার পুত্র-কন্যা নিয়ে অন্যরকম বৈশাখ কেটেছে। লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরেছিলাম। অনেক ভাল লেগেছে। আর আমি তো ছয় ভাইয়ের একমাত্র আদরের বোন। তাই তাদের বাসায় ঘুরে ঘুরেই সময় কেটেছে। ছোটবেলায় কি গ্ল্যামার মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন? খানিক হেসে প্রিয়তি বলেন, ছোটবেলায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আমার দেশের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর আর নানার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার ফার্মগেটে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য আয়ারল্যান্ড যাই ১৩ বছর আগে। কিন্তু সে সময় ডাক্তারি পড়াটা এখানে অনেক ব্যয়বহুল ছিল। তাই পরবর্তীকালে বিজনেস নিয়ে পড়াশোনা করি। পরে আমার চিন্তা-ভাবনা বদলে যায়। আমি বৈমানিক হিসেবে পড়াশোনার দিকে ঝুঁকে পড়ি। কারণ, আমি আকাশ ভালবাসি, উড়তে ভালবাসি। শেষ পর্যন্ত পাইলট হয়ে গেলাম। আর ১৪ বছর বয়স থেকে আমি মডেলিং করি। আয়ারল্যান্ডে এসেও মডেলিংটা চালিয়ে যাই। এক সময় মিস আয়ারল্যান্ডে অংশ নেই। এইতো। মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার গল্পটা একটু বলুন। কেমন ছিল সেই সফর? আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে প্রিয়তি বলেন, খুব সহজ ছিলো না আমার জন্য। ২০১০-এর দিকে আমি আয়ারল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে আবারও মডেলিং শুরু করার চেষ্টা করি। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হলো। ২০১৪-এর অডিশন যখন হচ্ছিল তখন এমনিতেই শখের বসে অংশ নেই। পরবর্তীকালে কিভাবে কিভাবে যেন নির্বাচিত হয়ে যাই। তবে বাইরের দেশের প্রতিযোগিতায় ফটোশুট, পোশাক থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। আমারও তাই করতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যখন আমার নাম ঘোষণা করা হলো মিস আয়াল্যান্ড হিসেবে, বিশ্বাস করুন আমার একটুও বিশ্বাস হচ্ছিল না। একজন বাংলাদেশী হিসেবে খুব গর্ব হচ্ছিল। মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর এরই মধ্যে একটি আইরিশ ছবিতে কাজ করেছেন প্রিয়তি। খুব শিগগিরই সেটি মুক্তি পাবে। এর বাইরে আয়ারল্যান্ডের হয়ে তিনি অংশ নিচ্ছেন মিস আর্থ প্রতিযোগিতায়। সেপ্টেম্বরে তিনি সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমেরিকায় উড়াল দেবেন। বাংলাদেশে কোন কাজ করার ইচ্ছে আছে কি না জানতে চাইলে প্রিয়তি বলেন, যদি ভাল প্রস্তাব পাই ও শিডিউল মেলাতে পারি তবে বাংলাদেশে কাজ করবো। কারণ, বাংলাদেশী হিসেবে আমি সব সময় গর্ববোধ করি। তবে সেরকম কোন ভাল প্রস্তাব এখনও পাইনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রিয়তি বলেন, আমার ইচ্ছে ভাল একটি এয়ারলাইন্সে যোগ দেয়া। কারণ, মডেলিংটা সব সময় আমি করতে পারবো না। তাই আকাশে সব সময় ভেসে চলতে চাই, যেটা বৈমানিক হিসেবে আমি পারবো।  পাশাপাশি লেভেল বজায় রেখে মডেলিংটা চালিয়ে যাবো। বাংলাদেশ থেকে যারা দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়, তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন। প্রিয়তি খুব উৎসাহী সুরে বলেন, বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বক্ষেত্রে অনেক বাধা। আমি আমার পরিবারের সাপোর্ট শত ভাগ পেয়েছি। আমার প্রতি তাদের বিশ্বাসটাও ছিল অগাধ। আমি জানি না আমাদের মেয়েদের এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধা কোথায়। ভারত কিংবা বাইরের একটা মেয়েকে আমরা বিকিনিতে দেখতে পছন্দ করছি, কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েদের ক্ষেত্রে হচ্ছে তার বিপরীত। আমাদের সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলাতে হবে। আর সেটা হলেই আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারবো। বিশ্ব জয় করতে পারবো।