মালয়েশিয়ায় সাধারন ক্ষমা: দেশে ফিরতে উড়োজাহাজের বিশেষ ছাড়

5

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে  বিফোরজি প্রোগ্রাম। আর এ প্রোগ্রাম ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিশেষ করে এ প্রোগ্রামের আওতায়  স্বল্পমূল্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোনরূপ হয়রানি ছাড়া ফ্লাইট টিকিট দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম। গত ২৩ জুলাই কুয়ালালামপুর – ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এ সম্পর্কিত একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির নিয়মানুযায়ী ইচ্ছুকদের নিজ দেশে ফিরতে আগেই ফ্লাইট টিকিট ক্রয় করতে হয় এবং পরে ইমিগ্রেশনে আবেদন করতে হয়। এ প্রোগ্রামের আওতায় কালোবাজারিদের দ্বারা যাতে সাধারণ কোনো কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ফ্লাইট টিকিট যেন সহজে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করতে পারে তা নিশ্চিত করতে বললেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার।কর্মসূচি সফল করতে এয়ারলাইনসগুলো সহযোগিতা করার আশ্বাস ও দিয়েছে। এ আশ^াসের প্রেক্ষিতে উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স ও ইউএস বাংলা। তবে সাধারন কর্মীদের অভিযোগ, উড়োজাহাজগুলো দ্বি-গুণ ভাড়া নিচ্ছে। এমন অভিযোগের কথা জানতে চাইলে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার ইমরুল কায়েস এ প্রতিবেদককে জানান, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখন তথ্য প্রযুক্তির দিন। যে কেউ অনলাইনে বিমান ভাড়া তার মোবাইলের মাধ্যমে চেক করতে পারে। এখানে দ্বিগুন ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই। সাধারন ক্ষমার আওতায় অবৈধ কর্মীরা যাতে কম মূল্যে টিকেট কাটতে পারে , হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনারপর বাংলাদেশ বিমান তিন কেটাগরির ভাড়া নির্ধারন  করেছে। সেটি হচ্ছে, ১- ভাড়া ২৫০, ট্যাক্র ৭৪,লেভি ২০, মোট: ৩৪৪ রিঙ্গিত। এই ফেয়ারে শুধু হাতে করে ৭ কেজি মাল নেয়া যাবে। ২- ভাড়া ৩৭৫, ট্যাক্র ৭৪, লেভি ২০, মোট: ৪৬৯ রিঙ্গিত। এক্ষেত্রে ্কজন পেসেন্জার ২৫ কেচি ব্যাগে এবং ৭ কেজি হাতে মাল নেয়া যাবে। ৩- ভাড়া ৪২৫, ট্যাক্্র ২০ রিঙ্গিত, মোট: ৫১৯ রিঙ্গিত। এক্ষেত্রে একজন পেসেন্জার ৩৫ কেজি ও ৭ কেজি মাল নেয়া যাবে। ইমরুল কায়েস অরোও জানান, এখানে যে লেভি ২০ রিঙ্গিত সেটা মালয়েশিয়া সরকার আগে নিতনা। এখন তারা নতুন আইন করে টিকেটের সাথে নিয়ে যাচ্ছে। সকল উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কর্তন না করতে আবেদন করলে তারা নাকচ করে দেয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের কর্মী যারা মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরন করেন তাদের মরদেহ হাইকমিশনের সহযোগিতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স বিনা ভাড়ায় দেশে নিয়ে আসে।ইউএস বাংলার অপারেশন ম্যানেজার মো: শহীদুল ইসলাম জানা, হাইকমিশনে আলোচনারপর সাধারন ক্ষমার আওতায় বাংলাদেশি কর্মী কম মূল্যে টিকেট করতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে ভাড়া,ট্যাক্্র ও লেভিসহ মোট ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ রিঙ্গিতের মধ্যে একজন কর্মী টিকেট কাটতে পারবে। শহীদুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক প্যাসেন্জারের মাল সময়মত পৌছানোর বিষয়টিওআমরা নিশ্চিত করেছি।  এদিকে এ মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির কাজ প্রক্রিয়াকরণের কোনো তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্ট নিযুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, কোনো মাধ্যম ছাড়াই আবেদনকারীকে সরাসরি নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। যদি কেউ তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রদান করে তাহলে জেল-জরিমানা হতে পারে।