মালয়েশিয়ায় ফ্লাইট বাড়ালেও কমেনি টিকিটের দাম

4

মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি “ব্যাক ফর গুড” কর্মসূচি শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে এ কর্মসূচি শুরু হয় চলতি বছরের ১ আগস্ট। ১৪ ডিসেম্বর থেকে কুয়ালালামপুর টু ঢাকা রুটে চালু হচ্ছে বিমানের অতিরিক্ত ১৬টি ফ্লাইট। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফেইবুক পেজে রবিবার এক নোটিশ প্রকাশ করেছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ফ্লাইট কুয়ালালামপুর টু ঢাকা ব্যাক ফর গুড কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে দেশে ফিরে যেতে বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতিরিক্ত ১৬ টি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। টিকিট ক্রয় করতে কোন সমস্যা হলে হাইকমিশনের টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ফ্লাইটের টিকিট মূল্য:

ইকোনোমি ক্লাস
১) লাগেজ ছাড়া ১২৯৪ রিংগিত
২) লাগেজসহ ১৭৪৪ রিংগিত
বিজনেস ক্লাস
১) লাগেজ ছাড়া ২৪২৪ রিংগিত
২) লাগেজসহ ২৯২৯ রিংগিত

কিন্তু দেশে ফিরতে যাওয়া শ্রমিকরা কোনো রকম হয়রানি ছাড়া কমমূল্যে এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রির প্রস্তাব রাখলেও কমেনি ভাড়া। যেখানে আগে ১১০০ থেকে ১২০০ রিঙ্গিতের মধ্যে পাওয়া যেত যাতায়াত সুবিধা সেখানে ফ্লাইট শিডিউল বাড়ালেও এখন কেন ভাড়া কমবে না এমন প্রশ্ন ছুড়েছেন প্রবাসীরা। তাদের দাবি, এক বেলার টিকিট ৭০০ থেকে ১০০০ হাজারের মধ্যে করলেও কিছুটা সহনীয় হয় তাদের জন্য।

উল্লেখ্য, এ কর্মসূচির শুরুতে হজ মৌসুম ও কোরবানির দোহাই দিয়ে প্রথমে কিছু কিছু বিমান টিকেট এজেন্ট প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশি দামে টিকেট বিক্রি শুরু করেন। অনেকে ভেবেছিলেন হজ এবং কোরবানি শেষে হয়ত আগের দামেই মিলবে টিকেট এবং ফেরা যাবে স্বাচ্ছন্দ্যে । কিন্তু প্রবাসীদের ভাগ্যে ঘটলো হিতে বিপরীত। “ব্যাক ফর গুড” কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ প্রায় সবকটি এয়ারলাইন্স এর এয়ার টিকিট না থাকায় আবেদন জমা করতে পারছে না অনেকে। এ জন্য এয়ার টিকিটের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিমান বাংলাদেশ বরাবর আবেদন করেন। শুধু একবেলার টিকিটই এখন দেড় হাজার রিঙ্গিত থেকে ২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত।

এ দিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে ৬টি এয়ারলাইন্স। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা, রিজেন্ট এয়ারলাইনসের ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের মধ্যে ফ্লাইট রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, মালিন্দো এয়ার ও এয়ার এশিয়ার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ১৫, ১৭ ও ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা-কুয়ালালামপুর ও কুয়ালালামপুর-ঢাকায় ১৬, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর তিনটি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতারণা থেকে সাবধান হতে এবং যে কোনো এজেন্ট বা ভেন্ডরের সঙ্গে টাকা লেনদেন না করার জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা এক নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করেছেন।

দূতাবাসের নোটিশে বলা হয়েছে, ট্রাভেল পারমিট এবং স্পেশাল পাস সম্পূর্ণ আলাদা। স্পেশাল পাস দেয় মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন। ট্রাভেল পারমিট (টিপি) দেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। জমা দেয়ার সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বিতরণ বিকাল ৪-৫টায় নিজে উপস্থিত হয়ে টিপির আবেদন জমা দিতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে। যোগাযোগের নামে ফোন নাম্বার দেয়া হয়েছে।

সেদেশের সংশ্লিষ্ট দফতরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সালের ১ আগস্ট থেকে ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচি শুরু করে দেশটির সরকার। সর্বশেষ সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার এরও বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসী স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণ করে, নিজ নিজ দেশে চলে যাবে বলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।