মালয়েশিয়ায় নিখোঁজ আইরিশ কিশোরীর সন্ধানে ওঝা, ইউরোপিয়ান পুলিশ

12

মালয়েশিয়ার একটি রিসোর্ট থেকে দশদিন আগে নিখোঁজ এক আইরিশ কিশোরীর সন্ধানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দুই ওঝাও যোগ দিয়েছেন।

১৫ বছর বয়সী নোরা অ্যান ক্যুরিনের সন্ধান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সোমবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে ১২ হাজার ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুয়ালা লামপুরের ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর সেরেমবানের দুসুন রিসোর্টে আসার পর গত সপ্তাহের রোববার থেকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নোরার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ একে ‘নিখোঁজের’ ঘটনা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও, পরিবারের ধারণা তাদের কিশোরী মেয়েটিকে ‘অপহরণও করা হতে পারে’।

“জন্মের পর থেকেই ও (নোরা) সংবেদনশীল। সে আমাদের কাছে অনেক অনেক মূল্যবান; আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। নোরাকে খুঁজে পেতে যে কোনো তথ্য দিতে সবার কাছেই আবেদন জানাচ্ছি আমরা,” রেকর্ডকৃত বিবৃতিতে আকুতি মা মিয়েব ক্যুরিনের।

নোরার সন্ধানে ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্ধারকারী দলের ৩০০রও বেশি সদস্য রিসোর্ট সংলগ্ন বন চষে বেড়াচ্ছেন।

উদ্ধারকারীরা মিয়েবের রেকর্ড করা কথাও বাজিয়ে যাচ্ছেন; ওই রেকর্ডে নোরাকে তার মা ফিরে আসতে অনুরোধ করেছেন।

সোমবার উদ্ধার তৎপরতায় এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে দুই ওঝাও; জঙ্গলের মধ্যে বসে চোখ মুদে তাদের প্রার্থনা ও বিলাপ করতে দেখা গেছে।

“সে এখানে আছে এখন, তাই আমরা আজ রাতে এখানে থেকে দেখবো তাকে খুঁজে করতে পারি কিনা, তারপরই জানতে পারবো কেন সে নিখোঁজ,” বলেছেন মোহাম্মদ খালিদ মোহাম্মদ নামের এক ওঝা।

নোরার খোঁজে স্বেচ্ছাসেবী একদল হাইকারও রিসোর্ট সংলগ্ন বনে অভিযান চালাচ্ছেন। “আমরা এখানকার পথঘাটের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি পরিচিত; তাই আমরা চেষ্টা করছি মেয়েটিকে খুঁজে পেতে কোনো সাহায্য করা যায় কিনা,” বলেছেন শার্লে ইয়াপ।

সোমবার এক বিবৃতিতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীর খোঁজে উপযুক্ত তথ্যের জন্য বেলফাস্ট-ভিত্তিক অজ্ঞাতনামা এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ১২ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে নোরার পরিবারের সঙ্গে কাজ করা লুসি ব্ল্যাকম্যান ট্রাস্ট।

উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় ব্রিটিশ, আইরিশ ও ফ্রেঞ্চ পুলিশের সদস্যরা হাজির হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা চে জাকারিয়া ওথম্যান।

অভিযানে ইউরোপিয়ান পুলিশ কী ভূমিকা রাখছে- তা বলতে রাজি হননি তিনি।