মালয়েশিয়ায় ঈদুল আজহা উদযাপন

15

আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় উদযাপিত হলো ঈদুল আজহা। আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা’ ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে মসজিদ প্রাঙ্গন। নতুন পোশাকে মসজিদ নেগারার দিকে আসছে মানুষ। সবাই যে মালয়েশিয়ার নাগরিক তাও না। ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্থান, সিরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ নানা দেশের নানা জাতের মানুষ আছেন সেই দলে। আছেন অনেক বাংলাদেশিও।

বিদেশে থাকলেও তাদের মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তাদের কাছে ঈদ মানে বিদেশে বসে দেশের স্মৃতিচারণা।
রোববার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানী কুয়ালালামপুরের জাতীয় মসজিদ (নেগারায়) সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদ নেগারায় নামাজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ডা. তুন মাহাথির মোহাম্মদ।

নামাজ শুরুর আগে বয়ান পেশ করেন খতিব তানশ্রি শাইখ ইসমাইল মোহাম্মদ। নামাজের আগে কুরবানির তাৎপর্য নিয়ে খতিব তার বয়ানে বলেন, কুরবানি হলো আল্লাহ তা’আলার জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শনের অন্যতম ইবাদত। যা যুগে যুগে সব নবি-রাসুলের জন্যই বিধিবদ্ধ ছিল। আর বর্তমান কুরবানি আমাদের জন্য হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক পালনীয় ঐতিহাসিক আদর্শ ইবাদত। কুরবানি দেয়ার কিছু মাসআলা ও মাসায়েল নামায আদায়কারীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

ঈদ উৎসবকে সত্যিকার পরম করুণাময়ের কাছে গৃহীত করতে চাইলে সবধরনের কৃত্রিমতা ও লৌকিকতার মুখোশ ঝেড়ে ফেলে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠার আহ্বান জানায় ঈদ। আল্লাহ এবং তার রাসুল (সা.)-এর আদর্শের সীমানা ডিঙ্গিয়ে যাতে এর কোনো অমর্যাদা না হয় সেদিকে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

Malaysia-6

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের পর মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এ সময় মুসল্লিরা তাদের শিশুদের নিয়ে আসেন ঈদ জামাতে। শিশুরাও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ সেলফিতে মেতে উঠেন।

Malaysia-6

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহরে ঈদ-উল আজহা উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হাংতোয়া মসজিদ আল বোখারি, মসজিদ জামেক, তিতিওয়াংসা বায়তুল মোকাররাম, কোতারায়া বাংলা মসজিদ, ছুবাংজায়া বাংলা মসজিদ, ক্লাং, পেনাং, ছুঙ্গাই ভুলু, সেলায়ং পাছার পুচং, মালাক্কা, জহোরভারুতেও ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

Malaysia-6

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম সেদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের নেতারাও প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।