মাদ্রাসায় ভালো আরবি জানেন না ৬১ ভাগ শিক্ষক

0

ঢাকা : মাদ্রাসার কারিকুলামে অর্ধেকের বেশি আরবি সম্পর্কিত বিষয়। এগুলো পড়ানোও হয় আরবিতে। অথচ মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন এমন শিক্ষকদের শতকরা ৬১ ভাগই আরবিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন নয়।

আরবি কোন রকম জানেন কিন্তু শিক্ষাদান করার কোন দক্ষতা তাদের নেই। এমন ধরনের অনভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে চলছে দেশের প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মাদ্রাসা। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়ছে মাদ্রাসা শিক্ষার উপর।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের আরবি ভাষা দক্ষতা বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এছাড়া সোমবার এ বিষয়ে একটি কর্মশালায় আয়োজন করে ব্যানবেইস। সেখানে এসব অদক্ষতা কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় তার করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন। এছাড়াও শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন ব্যানবেইস পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যানবেইস সূত্র জানায়, দাখিল, আলিম, ফাজিলে অর্ধেকেরই বেশি নম্বর আরবিতে পড়ানো হয়। আর কামিলে একটি বিষয় বাদে পুরোটাই আরবি। অথচ মাদ্রাসার এই আরবি বিষয়ের শিক্ষকরাই তাদের বিষয়গুলোতে দক্ষ নন।

দাখিলে আরবি ভাল জানেন ৩২ শতাংশ শিক্ষক, অধিকতর ভালো ৫ শতাংশ, মোটামুটি পর্যায়ের ৫৭ শতাংশ ও খারাপ ৬ শতাংশ। আলিমে ভাল জানেন ৩৩ শতাংশ, অধিকতর ভাল ৬ শতাংশ, মোটামুটি ৩৯ শতাংশ, খারাপ ২২ শতাংশ। ফাজিলে ভাল ৩৩ শতাংশ, অধিকতর ভাল ৯ শতাংশ, মোটামুটি ৫৬ শতাংশ ও খারাপ ২ শতাংশ। কামিলে ভাল ২২ শতাংশ, মোটামুটি ৫৬ শতাংশ ও খারাপ ২২ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান থেকে গড়ে ৩৯ শতাংশ আরবি শিক্ষক আরবিতে দক্ষ বলে জানা গেছে।

ব্যানবেইস থেকে দেশের মোট ৯২টি মাদ্রাসায় সমীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে দাখিলে ৪৬টি মাদ্রাসার ৩১১ জন শিক্ষকের মধ্যে আরবির ৯২ জন শিক্ষক, আলিমের ১৫ মাদ্রাসার ১৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩১ জন, ফাজিলের ২৭ মাদ্রাসার ২৪২ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৪ জন এবং কামিলের ৪ মাদ্রাসার ৭৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জন শিক্ষককে এই সমীক্ষার আওতায় আনা হয়।

জানা গেছে, দেশে মোট নয় হাজার ৩৪১টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৮২টি দাখিল, ১৪৮২টি আলিম, ১০৫৫টি ফাজিল ও ২২২টি কামিল মাদ্রাসার রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত এসব মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী।

দাখিলে কোরআনে ১০০, হাদীসে ১০০, আরবি দুই পত্রে ২০০, আকাঈদ ও ফিক্হ ১০০, ইসলামের ইতিহাসে ১০০ নম্বর রয়েছে। এর বাইরে সাধারণ বিষয় বাংলায় ২০০, ইংরেজিতে ২০০, গণিতে ১০০, বিজ্ঞানে ১০০ ও বাংলাদেশ স্টাডিজে ১০০ নম্বর রয়েছে।

ঐচ্ছিক বিষয়ের ১০০ নম্বরেও শিক্ষার্থীরা আরবি বিষয় নিতে পারবে। সে হিসেবে ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ৭০০ আরবিতে। আলিমে আরবিতে আরো ১০০ নম্বর বেশি। ফাজিলে আবশ্যিক ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৫০০ আরবি।

আর কামিলের ১০০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ সাধারণ বিষয়ের নম্বর। অথচ সেই কামিলের আরবি শিক্ষকদের অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ। কামিলে ২২ শতাংশ শিক্ষক ভাল জানলেও অধিকতর ভাল জানা শিক্ষক নেই। এমনকি কামিল মাদ্রাসাগুলোতে আরবি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্স (সম্মান) কোর্স করা শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ।

মাদ্রাসাগুলোতে আরবি শিক্ষকদের মান খুব বেশি একটা ভাল না হলেও ফলাফলের দিক দিয়ে তারা বরাবরই ভাল। গত বছর দাখিলে পাসের হার ছিল ৮৯.২৮ শতাংশ ও আলীমে ৯৪.০৯ শতাংশ। আর কয়েক বছর ফাজিল ও কামিলের পাসের হারও ৯০ শতাংশের উপরে। ২০১২ সালে ফাজিলে পাস করেছে ৯৬.৮২ শতাংশ। ২০১০ সালে কামিলে পাস করেছে ৯৮.৮৯ শতাংশ।

ব্যানবেইসের সমীক্ষা থেকে জানা যায়, আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আরবিতে অনার্স, মাস্টার্স করা শিক্ষকের সংখ্যা খুবই কম। আরবিতে অনার্স করা শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র দুই শতাংশ। দাখিল মাদ্রাসায় আরবিতে অনার্স করা শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১ শতাংশ, আলীমে ৩ শতাংশ, ফাজিলে ২ শতাংশ, কামিলে ১ শতাংশ।

দাখিলে আরবিতে মাস্টার্স করা শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৯ শতাংশ, আলিমে ১৫, ফাজিলে ৫ ও কামিলে ৩০ শতাংশ।

মাদ্রাসাগুলোতে ফাজিল পাস করা শিক্ষকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। দাখিলে ৪৯ শতাংশ, আলীমে ৪৬, ফাজিলে ৫৭ ও কামিলে ৫৫ শতাংশ ফাজিল পাস করা শিক্ষক রয়েছেন।