বায়রার ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অর্থমন্ত্রী- ‘আমি আপনাদের ছিলাম, আছি সব সময় আপনাদেরই থাকবো’

1

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাবিশ্বে ম্যানপাওয়ারো রেমিটেন্সের আয়তন ৭৯৯ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে আমাদের অংশে হচ্ছে ১৬ বিলিয়ন ডলার। এটা অনেক কম। আমাদের ১১ মিলিয়ন মানুষ দেশের বাইরে রয়েছে। যদি তাদেরকে আমরা সত্যিকারভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যথাযোগ্য কাজের উপযোগী করে পাঠাতে পারতাম তাহলে আমাদের রেমিটেন্সের পরিমান আরো অনেক বাড়তো।

আজ (১১ মে) গুলশানে দ্যা ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীজ (বায়রা) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য অর্থ মন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল এমপি এসব কথা বলেন।

এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীজ (বায়রা) এর সভাপতি বেনজীর আহমদ, এমপির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব রৌনক জাহান, জনশক্তি কর্মসংস্থাণ ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, বায়রার সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের (কর্ণধার) এমডি মুহা. নুর আলি, সাবেক সভাপতি আবুল বাশার। এছাড়া ইফতার মাহফিলে বায়রার কয়েক’শ সদস্য ছাড়াও মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব ও বিএমইটি’র উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী পরিচালক হেলাল উদ্দিন এবং জার্ণালিষ্ট’স ফোরাম অন মাইগ্রেশন এর (জেএফএম) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিথুন মাহফুজ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্য বলেন, আজকে সবচেয়ে অর্থনৈতিক এলাকা হিসাবে আলোতিক জায়গাটি হচ্ছে আমাদের ম্যানপাওয়ার। ম্যানপাওয়ার থেকে আমরা যেমনিভাবে কর্মসংস্থাণ সৃষ্টি করি, ঠিক তেমনিভাবে আমরা বিদেশ থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রেমিটেন্সটাও সংগ্রহ করি। আপনারা সত্যি বলেছেন, রেমিটেন্সই হচ্ছে আমাদের অর্থনীতিতে মুল চালিকা শক্তি। আমাদের এ বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে আমরা ১৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমি মনে করি ইনশাহআল্লাহ এটাকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া বেশী কঠিন কোন কাজ না।

এরআগে তিনি বক্তব্য দেয়ার শুরুতে বলেন, “আসলে আমি আসছি আপনাদের পরিবারের একজন হিসাবে। আমি আপনাদের মন্ত্রী না। আমি মন্ত্রী হিসাবে কখনো আসবো না। আগামীতে মন্ত্রী হিসাবে দাওয়াত দিলে তাহলে দেখতেই পাবেন না। আমি আপনাদের ছিলাম, আছি এবং সব সময় আপনাদেরই থাকবো”

বায়রার সভাপতি বেনজির আহমদ এমপি আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, আমাদের রিক্রুটমেন্টের ব্যাপারে মন্ত্রনালয় বা গর্ভমেন্টের যে চাহিদা আছে আমরা সেটা অবশ্যই মেনে চলবো। এবং মাইগ্রেশন কস্ট কমানোর ব্যাপারে যে কথা বলা হচ্ছে সেটাও আমরা মেনে চলবো। আরেকটি কথা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে আমরা চাই, সকল সদস্যদের জন্য বাজার উম্মুক্ত থাকুক।

বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান প্রবাসী কল্যাণ সচিব এবং জনশক্তি কর্মসংস্থাণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের উদ্দেশ্য বলেন, আপনাদের কাছে আমাদের দাবী ছোটখাটো অভিযোগের কারণে লাইসেন্স মালিকদের সার্ভারটি লক করবেন না। কর্মী পাঠাতে গেলে কমপ্লেইন হবেই। কমপ্লেনের জন্য ডাকবেন। আমরা সকলে চেষ্টা করবো যাওয়ার জন্য এবং বায়রার মাধ্যমে সহযোগিতা করে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

বায়রার সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহা. নুর আলী বলেন, ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ের সচিব ও ডিজি মহোদয় গঠনমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যটা আরেকটু পরে হলে ভালো হতো। আজকে আমাদের তাদের কাছে কোন দাবী দাওয়া নয়। আর আমি একটি কথা বলতে পারি, তাদের সামনেই বলছি, আপনারাও সবাই আমার সাথে একমত হবেন, বর্তমানে মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা পজিটিভ এবং বিজনেস বান্ধব। অল্প সময়ে তারা এতো সলিট ও বেশী কাজ করার যে টেনডেন্সি যা আমি অতীতে কখনও দেখিনি। বরং অতীতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি গোবরের উপর ক্রীম লাগিয়ে যে কেক বানায়, এমন দেখেছি। কিন্তু এখানে পুরো কেকটাই সলিট’।