বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদিতে বসবাস রোহিঙ্গার

5

শরণার্থী হিসেবে থাকা মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই; কিন্তু তা নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে সেখানে আবাস গেঁড়ে ব্যবসাও করেছিলেন নজির আহমেদ। সম্প্রতি দেশে আসার পর গত রোববার সৌদি আরবে রওনা হওয়ার সময় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে ধরা পড়েন এই রোহিঙ্গা যুবক। চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার রমজান বিবি নামে এক রোহিঙ্গা নারীর দেওয়া তথ্যে গ্রেপ্তার করা হয় নজিরকে। তাকে নিজের স্বামী দাবি করছেন রমজান বিবি। এই রমজান বিবি গত ১৮ অগাস্ট ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চট্টগ্রামে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারল, রমজান বিবি তো  শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র করিয়েছিলেন, নজির পাসপোর্টও করে বিদেশেও যাতায়াত করছেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা নারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসন্ধান করে আমরা নজিরের পাসপোর্ট নম্বর পেয়েছিলাম। এরপর আমরা তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য বিমানবন্দরে অবহিত করি।

“রোববার সে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে আমাদের হাতে সোপর্দ করে। সোমবার তাকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বর্তমানে সে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।” এডিসি রউফ জানান, ২০১০ সালে নজির রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পাসপোর্ট করেছিলেন এবং ২০১২ সালে তিনি সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে উল্লেখ ২০১৫ সালে এমআরপি পাসপোর্টও সংগ্রহ করেন। নজির সৌদি আরবে বসবাসের পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নজিরের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে। ১৯৯০ সালে কিশোর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন টেকনাফের মোচনি শরণার্থী শিবিরে। তার শরণার্থী কার্ড (এমআরসি) নম্বর ৬০১১৩। নজিরের কাছ থেকে পুলিশ পাসপোর্ট,  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের’ সদস্য কার্ড, সৌদি আরবের বসবাসের অনুমতিপত্রও জব্দ করেছে।নজির পুলিশকে বলেছেন, ২০১২ সালে তিনি প্রথম সৌদি আরবে যান। সেখানে বছর খানেক অবস্থান করে বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে ফিরে তিনি মাদকের মামলায় কারাগারেও ছিলেন। ছাড়া পেয়ে গত বছর আবার সৌদি আরব চলে যান এবং এ বছরের জুন মাসে আবার দেশে আসেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, “নজির মাদক কারবারের সাথেও জড়িত। বিভিন্ন সময়ে সে কক্সবাজার সদর থানা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি ও ফেনী সদর থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। ফেনীতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মাদকের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিক আইনে মামলাও হয়েছিল ২০১৭ সালে।” নজির চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি মাদক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানান তিনি।গত ১৮ অগাস্ট ধরা পড়ার পর রমজান বিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন, তার স্বামী নজির বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে বাস করেন। এখন তিনি দেশে আছেন। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভুয়া এনআইডিসহ রমজান বিবির সঙ্গে তাকে সহায়তাকারী এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়। রমজান বিবি তার নাম পরিচয় গোপন করে লাকী নাম দিয়ে হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে তৈরি করেছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্র। সেটি জাল হলেও ওই কার্ডের তথ্য সংরক্ষিত ছিল নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে। নজিরকে স্বামী দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি রমজান। তার দাবি, ২০১৪ সালে টেকনাফের মোচনি ক্যাম্পে তাদের বিয়ে হয়, পরে দুটি যমজ সন্তানও হয়। তবে নজির আরেকটি বিয়ে করে সৌদি আরবে চলে যায়। নজিরকে নিজেও রমজান বিবিকে তার স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছেন। তবে তার (নজির) পাসপোর্টে স্ত্রীর নাম লেখা আছে রমিজা খাতুন। আর এবছরের ২৯ মে তার নামে ইস্যু করা ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের’ সদস্য কার্ডে স্ত্রীর নাম লেখা আছে হুমাইয়া আক্তার।নজির বলেন, তার প্রথম স্ত্রী রমিজা মারা যাওয়ার পর সে রমজান বিবিকে (লাকী) এবং হুমায়ারাকে বিয়ে করেন। এডিসি রউফ বলেন, “নজিরকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলেছে।”