পুলিশকে ফোন করায় খুন হতে হয় সুমনকে

2

বল্লা শাহিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বন্ধুর নাম সুমন মিয়া (২১)। বল্লা শাহিন সুমনকে মাদক ব্যবসা করতে চাপ দিলে তাদের ভেতরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর সুমন পুলিশকে ফোন করে বল্লা শাহিনের মাদক ব্যবসার বিষয়টি জানান।

এর কয়েকদিন পর গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মিরপুরের অলি মিয়ার টেকের ২ নম্বর কালভার্ট এলাকার বটতলায় যান সুমন ও তাঁর বন্ধু সোহেল মোল্লা। সে সময় বল্লা শাহিনসহ মোট চারজন সুমন ও সোহেলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন সোহেল। কিন্তু প্রাণে রক্ষা পাননি সুমন।

কোপানোর সময় সুমনকে উদ্দেশ করে বল্লা শাহিন বলতে থাকেন, ‘তুই স্যারকে (পুলিশ) কল দিলি কেন? তোকে কল দিতে কে বলছে? তোর কলেই আমাগোর সব ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে।’ পরে কামাল হাওলাদার (৩৮) নামের একজন তাঁদের দুজনকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার খায়রুল আমিন এনটিভি অনলাইনকে এই ঘটনা জানান। তিনি বলেন, ‘বল্লা শাহিনসহ তার সহযোগীরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এলাকার অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে তাদের আঁতাত থাকে। মূলত তাদের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি মিরপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। চক্রটির অনেক সদস্যের নামে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়। গত কয়েকদিনে এদের গ্রেপ্তার করেছি।’

এদিকে ঘটনায় পরের দিন নিহতের বাবা মফিজ মিয়া (৫২) মিরপুর মডেল থানায় গিয়ে বল্লা শাহিন (৩২), ফুটা আলমগীর (৩৬), মাসুম হাওলাদার (৩৩), আবদুল মজিদের (২৮) নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এদের ভেতরে এজাহারভুক্ত ফুটা আলমগীর বাদে সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। এ ছাড়া এই মামলার তদন্তে গিয়ে হিজবুল্লাহ নুর আকাশসহ আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমন মিয়া শেওড়াপারায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করতেন। মা-বাবার একমাত্র সন্তান তিনি। এক সময় সুমন ও বল্লা শাহিন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। একদিন বল্লা শাহিন সুমনকে তার সঙ্গে মাদক ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। এতে সুমন রাজি না হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে বল্লা শাহিন গ্রুপের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার খায়রুল আমিন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত সব আসামি আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ছাড়াও এই ঘটনায় আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে তদন্তে বের হয়ে এসেছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গ্রেপ্তারকৃতরা ভীষণ ধূর্ত। এরা কেউই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। তাদের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি।’

নিহত সুমনের বাবা মফিজ মিয়া এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা কেড়ে নিয়েছে। ওদের ফাঁসি চাই আমি। আমার ছেলের উপার্জনে আমাদের সংসার চলত। আমি গরিব মানুষ, পরিবারের খরচ চালাতে খুব কষ্ট হয় আমার।’